মকর সংক্রান্তিতে গোরক্ষনাথে ভক্তি-জোয়ার! ভোরেই খিচুড়ি নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে গোরক্ষপুর মন্দিরে সাড়ম্বরে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি উৎসব। বৃহস্পতিবার ব্রহ্ম মুহূর্তে ভোর চারটে নাগাদ গোরক্ষপীঠাধীশ্বর তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নাথপন্থার রীতি মেনে পরম গুরু গোরক্ষনাথকে পবিত্র খিচুড়ি অর্পণ করেন। লোককল্যাণ ও বিশ্বশান্তির প্রার্থনা জানিয়ে তিনি গর্ভগৃহে পুজো-অর্চনা সম্পন্ন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিধি মেনে শ্রীনাথ জি-কে চাল, ডাল, তিল ও হলুদ মিশ্রিত খিচুড়ি ভোগ দেন। এরপর তিনি যোগীরাজ বাবা গম্ভীরনাথ ও নিজের গুরুদেব মহন্ত অবৈদ্যনাথের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যোগী আদিত্যনাথের পুজোর পরেই সাধারণ ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করেই ভোর তিনটে থেকে ভক্তদের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
নেপাল রাজপরিবারের বিশেষ অর্ঘ্য: লোকবিশ্বাস অনুসারে, নেপালে গুরু গোরক্ষনাথকে ‘রাজগুরু’ হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়। সেই ত্রেতাযুগ থেকে চলে আসা পরম্পরা মেনে এদিন নেপাল রাজপরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ খিচুড়িও বাবা গোরক্ষনাথের চরণে অর্পণ করা হয়। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি এবং নেপাল থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর।
সামাজিক সম্প্রীতির নজির: এই উৎসব কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। মন্দির চত্বরে আয়োজিত বিশাল সহভোজে ধনী-দরিদ্র ও জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে গোটা ব্যবস্থার তদারকি করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিড় সামলাতে নেওয়া হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, হিমাচলের জ্বালা দেবীর মন্দির থেকে ভিক্ষা করতে বেরিয়ে গোরক্ষপুরে এসে সাধনায় বসেছিলেন বাবা গোরক্ষনাথ, আর সেই পুণ্য স্মৃতিতেই আজও অবিরাম চলছে এই খিচুড়ি উৎসব।