ট্রাম্পের হাতে কি শেষমেশ নোবেল? হোয়াইট হাউসে মাচাদোর থেকে শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন কি তবে এভাবেই পূর্ণ হলো? দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে শোনা গিয়েছিল নোবেল শান্তি পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা। এবার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী তথা ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মাচাদো তাঁর নিজের নোবেল পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।

মাচাদোর এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার ‘স্বাধীনতার দূত’ হিসেবে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর এটিই ছিল তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ। বৈঠকের পর মাচাদো সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখছি। ১৮২৫ সালে লাফায়েত যেমন সিমোন বলিভারকে মেডেল দিয়েছিলেন, আজ আমরা বলিভারের বংশধরেরা ওয়াশিংটনের উত্তরাধিকারীকে এই নোবেল দিচ্ছি।”

কেন এই উপহার? ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে ধরার জন্য ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেওয়ায় মাচাদো তাঁকে ধন্যবাদ জানান। যদিও নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পদক মালিকানা বদল করলেও ‘নোবেল জয়ী’ খেতাবটি হস্তান্তরযোগ্য নয়, তবুও ট্রাম্প একে “পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য নিদর্শন” বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মাচাদোকে এক ‘অসাধারণ নারী’ হিসেবে বর্ণনা করে এই সম্মানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তেল ও পুনর্গঠন: রাজনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সমীকরণও। জানা গিয়েছে, মাদুরো অপসারিত হওয়ার ১১ দিনের মাথায় মার্কিন প্রশাসন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, ভেনেজুয়েলার তেলের রিজার্ভ এখন থেকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মার্কিন সংস্থাগুলি সেখানে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে পরিকাঠামো পুনর্গঠন করবে।