নবান্নের সামনে শুভেন্দুর ধর্নায় হাই কোর্টের ‘না’, বিস্ফোরক দাবি নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ বিরোধী দলনেতার!

আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশিকালে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল চুরির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। এই ইস্যুতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে কলকাতা হাইকোর্ট নবান্নের সামনে ধর্না দেওয়ার সেই অনুমতি দিল না। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নবান্নের পরিবর্তে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের সামনে ধর্না কর্মসূচি পালন করতে পারবেন বিজেপি বিধায়করা।
আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, তিনি এই নির্দেশে সন্তুষ্ট নন এবং অবিলম্বে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর কথায়, “আমরা নবান্নের সামনেই গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলাম। নবান্নের তিনটি দরজা আছে, কেন সেখানে অনুমতি দেওয়া হবে না? আমরা এই রায় মানি না, কর্মদিবসেই নবান্নের সামনে ধর্না করব।”
উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডের তদন্তে আইপ্যাক অফিসে ইডি (ED) তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং নথি সরিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে অস্ত্র করেই পথে নামতে চাইছে বিজেপি। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে, ইডি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা, রণকৌশল এবং দলীয় পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি একে ‘অপরাধ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
আদালত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত মন্দিরতলায় ধর্নার অনুমতি দিলেও জুড়ে দিয়েছে কড়া শর্ত। সর্বাধিক ৫০ জন বিধায়ক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। ব্যবহার করা যাবে না কোনো মাইক বা লাউডস্পিকার। এছাড়া কোনো প্রকার উস্কানিমূলক বা কুরুচিকর মন্তব্য করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।