বাংলায় নিপা ভাইরাসের থাবা! আক্রান্ত ২ স্বাস্থ্যকর্মী, ৩ জেলাকে ‘হাই রিস্ক জোন’ ঘোষণা স্বাস্থ্য দপ্তরের

রাজ্যে আবারও নতুন করে নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) আতঙ্ক। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার এক তরুণী নার্স এবং তাঁর সহকর্মী এক পুরুষ ব্রাদার নার্সের শরীরে এই মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV)-র রিপোর্টে দু’জনের শরীরেই সংক্রমণ ধরা পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ভবন।
৩ জেলাকে ঘিরে উদ্বেগ: চিহ্নিত ‘হাই রিস্ক জোন’
সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) দ্রুত সক্রিয় হয়েছে। আক্রান্ত তরুণী নার্সের সাম্প্রতিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তিনটি এলাকাকে ‘হাই রিস্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
-
বারাসাত (উত্তর ২৪ পরগনা): যেখানে ওই দুই নার্স একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
-
ঘোঘরাগাছি (নদীয়া): গত মাসের ১৫ ও ১৬ তারিখে আক্রান্ত তরুণী এখানে একটি বিয়েবাড়িতে যোগ দিয়েছিলেন।
-
কাটোয়া (পূর্ব বর্ধমান): যেখানে আক্রান্ত তরুণী নার্সের স্থায়ী বসতবাড়ি।
এই তিনটি এলাকায় নজরদারি ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ শুরু হয়েছে।
নিপা ভাইরাস কেন বিপজ্জনক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, এটি একটি জুনোটিক সংক্রমণ যা মূলত পশু থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এছাড়া দূষিত খাবার বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এটি ছড়াতে পারে। এর মারণ ক্ষমতা অত্যধিক এবং মৃত্যুহারও অনেক বেশি। প্রাথমিক উপসর্গের পর এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসের মতো প্রাণঘাতী আকার নিতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রস্তুতি
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত দু’জনকেই বর্তমানে বিশেষ চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ২০০১ এবং ২০০৭ সালের পর বাংলায় নিপা ভাইরাসের এই প্রত্যাবর্তন স্বাস্থ্য কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কেরলে ২০১৮ সালে এই ভাইরাস যেভাবে থাবা বসিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। চিহ্নিত এলাকাগুলোতে বাড়তি স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
সতর্কতা বার্তা: যদি জ্বর, মাথা যন্ত্রণা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয় এবং সম্প্রতি হাই রিস্ক জোনের ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসে থাকেন, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।