বিয়ের পর স্বপ্নপূরণ! দামী পোশাক কেনা নয়, বরং ভাড়ায় দিয়েই লাখ টাকা কামাচ্ছেন দুই জা

সমাজে সাধারণত জায়ে-জায়ে বা শাশুড়ি-বউমার সম্পর্ককে রেষারেষির নজরে দেখা হয়। কিন্তু রাজস্থানের সিকার জেলার দুই মহিলা এই প্রচলিত ধারণা বা ‘স্টেরিওটাইপ’ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। দুই জা— সুশীলা এবং ঋষিতা, একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে গড়ে তুলেছেন এক সফল ব্যবসায়িক জুটি। তাঁদের এই ঐক্য আজ সমগ্র শেখাওয়াতি অঞ্চলের মহিলাদের কাছে এক অনন্য উদাহরণ।
চাকরির বদলে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে: সুশীলা প্রথমে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু পরিবার ও ছোট সন্তানকে ফেলে দূরে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকে তিনি নিজের ব্যবসার পরিকল্পনা করেন এবং তাঁর জা ঋষিতার সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেন। শ্বশুরবাড়ির পূর্ণ সমর্থনে তাঁরা সিকারের বিখ্যাত ‘দিওয়ান মঙ্গল চাঁদ জৈন মার্কেটে’ খুলে ফেলেন নিজেদের পোশাকের দোকান— ‘দেবরানী জেঠানি ডিজাইনার শপ’।
পোশাক ভাড়ার অভিনব আইডিয়া: ব্যবসার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তা। ঋষিতা লক্ষ্য করেন যে, গ্রামীণ এলাকার অনেক মহিলাই বাজেট কম থাকায় বিয়ে বা অনুষ্ঠানে পরার জন্য খুব দামী পোশাক কিনতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধানে তাঁরা দামী রাজস্থানী পোশাক এবং লেহেঙ্গা ভাড়ায় দেওয়া শুরু করেন। অল্প খরচে স্টাইলিশ পোশাক পরার এই সুযোগ লুফে নিয়েছেন স্থানীয় মহিলারা, যার ফলে তাঁদের দোকান এখন সিকারের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
সাফল্যের নেপথ্যে পরিবার: এই দুই মহিলার সাফল্যের প্রধান স্তম্ভ তাঁদের শ্বশুরবাড়ি। পুত্রবধূদের নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখে এবং ব্যবসার কাজে উৎসাহ দিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক সমর্থন পেলে মহিলারা অসাধ্য সাধন করতে পারেন। বিয়ের পর যাঁরা নিজেদের স্বপ্নকে বাক্সবন্দি করে ফেলেছেন, তাঁদের জন্য সুশীলা ও ঋষিতার গল্প আজ নতুন আশার আলো।