“বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার ১৯৪৭ থেকেই চলছে, ভারতের দায় নেই”— তসলিমার বিতর্কিত মন্তব্য

কেরল বিধানসভার আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বোমা ফাটালেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, বর্তমান বাংলাদেশে মৌলবাদীদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাদের পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগাচ্ছেন। তসলিমা স্পষ্ট জানান, ১৯৭১ সালে যে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের জন্য মানুষ লড়াই করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ফিরে পাওয়া অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।

মৌলবাদের উত্থান ও সরকারের ভূমিকা: তসলিমা নাসরিন বলেন, “বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা ব্লগারদের হত্যা করেছে, ফতোয়া জারি করেছে। কিন্তু কোনো সরকারই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ক্ষমতায় টিকে থাকতে মাদ্রাসা তৈরি ও ধর্মের ব্যবহার করে মানুষকে উগ্রপন্থী বানানো হয়েছে। এখন সেই উগ্রপন্থীরাই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।” তিনি সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা উল্লেখ করে বলেন, “৭১-এ হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছিল, আর এখন সংখ্যালঘুদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে।”

ভারতের সঙ্গে যোগসূত্র ও হিন্দুদের ওপর অত্যাচার: ভারতে মুসলিমদের ওপর কথিত অত্যাচারের প্রভাবেই কি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে তসলিমা সাফ বলেন, “না, ভারতের কোনো ঘটনার সঙ্গে এর যোগ নেই। বাংলাদেশে ১৯৪৭ সাল থেকেই হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চলছে। কিছু জিহাদির মজ্জাতেই হিন্দু-বিদ্বেষ রয়েছে, যা সরকারি মদতে এখন মহীরুহ হয়েছে।”

নারী অধিকার ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি: ইরানের আদলে বাংলাদেশেও ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দেন তসলিমা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু মহিলাদের উত্তরাধিকার আইন বা বিবাহবিচ্ছেদের সঠিক অধিকার নেই। বহুবিবাহ বন্ধ করা এবং মহিলাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালুর জোরালো দাবি জানান।