শিবের বিয়েতে তৈরি প্রথম মুকুট! জানুন বাংলার শোলা শিল্পের অলৌকিক ইতিহাস

কথিত আছে, দেবী পার্বতীকে বিবাহের সময় মহাদেব শ্বেত মুকুট পরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা যখন উপাদান খুঁজছিলেন, তখন শিবের ইচ্ছাতেই জলাশয়ে জন্ম নেয় এক বিশেষ উদ্ভিদ— ‘শোলা’। তবে বিশ্বকর্মা এই নরম উপাদানে মুকুট তৈরি করতে পারছিলেন না। তখন মহাদেবের ইচ্ছাতেই জলাশয় থেকে আবির্ভাব ঘটে এক যুবকের, যাঁর নাম ‘মালাকার’। তিনি শোলা দিয়ে শিবের মনোরম মুকুট গড়ে দেন। সেই থেকেই বংশানুক্রমে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা ‘মালাকার’ নামে পরিচিত।
বাংলার এই প্রাচীন লোকশিল্পের প্রাণকেন্দ্র এখন মুর্শিদাবাদ। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এই উপাদানের উৎপাদন সীমিত হওয়ায় এর মূল্য ও শৈল্পিক গুরুত্ব আকাশছোঁয়া। কোনো যন্ত্র ছাড়াই সামান্য একটি ধারালো ছুরি আর তেঁতুল বিচির আঠায় তৈরি হয় টোপর, গয়না, চালচিত্র ও ঘর সাজানোর সামগ্রী। মুর্শিদাবাদের শিল্পীরা সারাবছর দেশ-বিদেশের বায়না সামলালেও, ন্যায্য পাওনা এবং পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ার আক্ষেপ আজও তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়।