বালি চুরির কালো টাকা সাদা করার ছক ফাঁস! ইডির জালে ১৪৯টি দামী সম্পত্তি, ঘাম ছুটছে প্রভাবশালীদের

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বালি খনন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কলকাতা জোনাল অফিস গত ২ জানুয়ারি জিডি মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলোর নামে থাকা ১৪৯টি স্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে। সরকারি হিসেবে যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ৮.২৬ কোটি টাকা। এর ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ ৩ জানুয়ারি, পিএমএলএ (PMLA) আদালতের বিশেষ এজলাসে অরুণ সরফ ও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে ইডি।

তদন্তের সূত্রপাত মূলত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআর-এর ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, বালি চুরি, অবৈধ খনন এবং বালি মজুত করে তা বেআইনিভাবে পাচার করা হচ্ছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বালি পরিবহনের জন্য সরকারি ই-চালান জালিয়াতি করে ভুয়ো চালান ব্যবহার করছিল এই চক্রটি। ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, অরুণ সরফের নেতৃত্বে জিডি মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড এই গোটা সিন্ডিকেটটি চালাত। একটি বৈধ চালান দেখিয়ে বারবার ট্রিপ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণ ভুয়ো চালান তৈরি করে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী অফিসাররা তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথি এবং প্রমাণ উদ্ধার করেছেন। বালি চুরির প্রকৃত পরিমাণ বুঝতে ইডি সিপিডব্লিউডির (CPWD) সহায়তা নিয়েছে। দেখা গিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকশো কোটি টাকার বালি তছরুপ হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সেই কালো টাকা সাদা করার জন্য অ্যাকাউন্টিং রেকর্ডেও কারচুপি করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়িক আয় হিসেবে দেখানোর জন্য তড়িঘড়ি জিএসটি রিটার্নেও রদবদল করা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রে খবর।

উল্লেখ্য, এই মামলার মূল অভিযুক্ত তথা জিডি মাইনিংয়ের প্রোমোটার অরুণ সরফকে গত বছরের ৬ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তদন্তে নগদ প্রায় ৯.৯ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অর্থ এবং ডিজিটাল নথি জব্দ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বালি মাফিয়াদের বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।