‘মন্দিরে মাথা নত করব, গঙ্গার জল খাব না’—সামনার সাক্ষাৎকারে রাজ ঠাকরের বিস্ফোরক মন্তব্য!

মহারাষ্ট্রের পুরভোটের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের উদয় হয়েছে। দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে এবার একই মঞ্চে এবং একই সুরে ধরা দিলেন উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-তে দেওয়া এক যৌথ সাক্ষাৎকারে দুই ভাই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি ‘মারাঠি অস্মিতা’ ও ‘মারাঠি মুসলিম’ ইস্যু তুলে ধরেছেন। সঞ্জয় রাউত এবং মহেশ মাঞ্জরেকরের নেওয়া এই সাক্ষাৎকার এখন মহারাষ্ট্রের অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

মারাঠি মুসলিম ও পরিচিতির রাজনীতি: সাক্ষাৎকারে রাজ ঠাকরে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বলেন, “প্রতিটি রাজ্যের সংস্কৃতি যেমন আলাদা, সেখানকার হিন্দু ও মুসলমানরাও আলাদা। মহারাষ্ট্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা বাস করছেন, তারা আসলে ‘মারাঠি মুসলিম’।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, একসময় হজ কমিটিতে উত্তর ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাঁর দলই প্রতিবাদ করেছিল। এমনকি প্রাক্তন ক্রিকেটার জহির খানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “জহির খান একজন খাঁটি মারাঠি মানুষ, তাঁর সাথে আমি মারাঠিতেই কথা বলি।”

বিজেপিকে সরাসরি নিশানা: বিজেপিকে আক্রমণ করে দুই ভাই দাবি করেন, “বিজেপিরও একটি এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদের শেষ তারিখ রয়েছে।” মুম্বইয়ের মেয়র ইস্যুতে বিজেপির হিন্দু কার্ডের পাল্টা দিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি বলছে তাদের মেয়র হিন্দু হবে, কিন্তু মারাঠিরা কি হিন্দু নয়?” তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মুম্বইয়ের পরবর্তী মেয়র হবেন একজন মারাঠি। উদ্ধব ঠাকরে যোগ করেন, “হিন্দুত্বের নামে সমতা ও ন্যায়বিচার থাকা উচিত, ঘৃণা নয়।”

গঙ্গার জল ও ব্যক্তিগত অবস্থান: নিজের কট্টরপন্থী ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে রাজ ঠাকরে বলেন, “আমি মন্দিরে মাথা নত করব, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি গঙ্গার জল পান করব। গঙ্গার উৎপত্তিস্থলে গিয়ে জল পান করা আলাদা বিষয়।” ঠাকরে ভাইদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মহারাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, যেখানে তাঁরা মারাঠি সম্প্রদায়কে নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য ভুলে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।