অকালমৃত্যুর হাতছানি! হার্ট অ্যাটাকের ১ মাস আগেই শরীর দেয় এই ৭টি সংকেত, চিনে নিন আজই

বর্তমান সময়ে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক কেবল বয়স্কদের রোগ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি বেদান্ত গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা অনিল আগরওয়ালের কনিষ্ঠ পুত্র অগ্নিবেশ আগরওয়ালের আকস্মিক মৃত্যু গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। জিমে ব্যায়াম করতে করতে, হাঁটতে হাঁটতে কিংবা নাচ-গানের অনুষ্ঠানে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুর ভিডিও এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই হার্ট অ্যাটাক কি সত্যিই হঠাৎ হয়?

নয়াদিল্লি এইমসের (AIIMS) বিশিষ্ট রেডিওকার্ডিওলজিস্ট ডঃ অমরিন্দর মাল্লি জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার প্রায় এক মাস আগে থেকেই আমাদের শরীর কিছু সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে। সময়মতো এগুলি চিনতে পারলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

১. বুকে ব্যথা ও অস্বস্তি: এটি সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। বুকে প্রচণ্ড চাপ অনুভব করা, ভারী ভাব বা বুক চেপে ধরার মতো যন্ত্রণা হওয়া বিপদের সংকেত। এই ব্যথা কেবল বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা বাম হাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. হঠাৎ মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা: কোনো কারণ ছাড়াই মাথা ঘোরা বা ঝাপসা দেখা হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ। হৃদপিণ্ড মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পাঠাতে না পারলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

৩. কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম: এসি ঘরে বসে বা বিশ্রামের সময়ও যদি আপনি দরদর করে ঘামতে থাকেন, তবে সাবধান! শরীরের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হলে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা থেকে হঠাৎ ঘাম হতে পারে।

৪. অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুমের পরেও যদি শরীরে শক্তির অভাব বোধ হয়, তবে বুঝবেন হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করতে সমস্যায় পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মহিলার ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে প্রচণ্ড ক্লান্তি দেখা দেয়।

৫. পেটের সমস্যা ও বদহজম: অনেকেই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণকে গ্যাস বা অম্বল ভেবে ভুল করেন। বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা বা বুক জ্বালাপোড়া অনেক সময় হৃদরোগের সংকেত হতে পারে।

৬. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও পায়ের পাতা ফোলা: কফি না খেয়েও হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া বা হঠাৎ করে পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারলে শিরায় তরল জমে শরীর ফুলতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলি বারবার দেখা দিলে দেরি না করে অবিলম্বে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট একটি পদক্ষেপই বাঁচাতে পারে আপনার মূল্যবান জীবন।