সাকেত কোর্টের ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী কর্মী! উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে বিস্ফোরক তথ্য

দেশের রাজধানী দিল্লির ব্যস্ততম সাকেত আদালত চত্বরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা ঘটনা। আদালত কমপ্লেক্সের ভেতরেই একটি বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করে দিলেন আদালতের এক কর্মী। মৃত ব্যক্তির নাম হরিশ সিং মাহার। পুলিশ সূত্রে খবর, হরিশ প্রায় ৬০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম (প্রতিবন্ধী) ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই ঘটনার পর গোটা আদালত চত্বরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কাজের চাপে জেরবার জীবন: পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হরিশ আদালতের একটি উঁচু তলা থেকে ঝাঁপ দেন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ তাঁর পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেই নোটে হরিশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অসহ্য কাজের চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তাঁর শারীরিক অক্ষমতার কারণে অফিসের কাজ তাঁর কাছে ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছিল, যা তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না।
অনিদ্রা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ: মৃত হরিশ তাঁর সুইসাইড নোটে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা এবং অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার (Overthinking) শিকার ছিলেন। আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা তাঁর মাথায় আগে থেকেই আসত, কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন তা কাটিয়ে উঠবেন। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি সেই লড়াইয়ে হেরে যান। এছাড়া আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, শারীরিক সমস্যার কারণে আগেভাগে অবসর নিলেও ৬০ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তিনি পেনশন বা সঞ্চয়ের টাকা পেতেন না। এই অনিশ্চয়তা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
‘কেউ দায়ী নয়’: তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হরিশ তাঁর নোটে পরিষ্কার লিখেছেন যে তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বিভাগ দায়ী নয়। তিনি নিজের ইচ্ছাতেই স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে সাকেত কোর্ট প্রশাসন ও দিল্লি পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ওই কর্মী আগে কখনও কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো মানসিক সহায়তার আবেদন করেছিলেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।