আই-প্যাক ইস্যুতে উত্তাল কলকাতা, অথচ অভিষেকের ভাষণে কেবল পরিযায়ী শ্রমিক! নেপথ্যে কি অন্য কৌশল?

বৃহস্পতিবার যখন আই-প্যাক অফিসে ইডির হানা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফাইল উদ্ধার ঘিরে কলকাতা তোলপাড়, তখন মালদহের নির্বাচনী মঞ্চে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ৩টে ১০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ ভাষণ দিলেও, গোটা শহর যে ঘটনায় তোলপাড়, সেই আই-প্যাক বা ইডি অভিযান নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না তিনি। অভিষেকের এই ‘রহস্যময়’ নীরবতা ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।
কলকাতায় তখন পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের সমান। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে আই-প্যাক অফিস—ছুটে বেড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘নথি চুরির’ অভিযোগ তুলে শহরজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অথচ অভিষেক তাঁর সভায় আই-প্যাক ইস্যু এড়িয়ে গিয়ে ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ এবং তাঁদের ওপর হওয়া ‘নির্যাতন’-কে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন। এমনকি বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে নামার পরও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি তিনি।
অভিষেকের এই আচরণ নিয়ে কুণাল ঘোষ কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও, বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, “এটি হয়তো তৃণমূলের কোনো অভ্যন্তরীণ কৌশল। কয়লা-কাণ্ডে ওঁর নাম বারবার এসেছে বলেই হয়তো সাবধানী থাকছেন।” প্রশ্ন উঠছে, আই-প্যাক কাণ্ডে দলের রণকৌশল কি দুই নেতার ক্ষেত্রে দুই রকম? না কি সেনাপতির এই মৌনতা আসলে বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস?