বাঘের রাজ্যে এবার গন্ডার-মহিষের গর্জন! হিমন্ত-মোহন চুক্তিতে তোলপাড় বন্যপ্রাণী জগত

মধ্যপ্রদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রাজ্যের বনভূমি থেকে কয়েক শতাব্দী আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বন্য মহিষদের পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় অসম থেকে বন্য মহিষ এনে কানহা-কিসলি অঞ্চলে পুনর্বাসিত করা হবে। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের মধ্যে এই ঐতিহাসিক বন্যপ্রাণী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিনিময়ে কী পাচ্ছে দুই রাজ্য? এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অসম মধ্যপ্রদেশকে তিন বছরের মধ্যে মোট ৫০টি বন্য মহিষ, দুই জোড়া গন্ডার, হাতি এবং কিং কোবরা প্রদান করবে। বিনিময়ে, মধ্যপ্রদেশ তাদের ‘টাইগার স্টেট’ তকমা বজায় রেখে অসমকে এক জোড়া বাঘ এবং ছয়টি কুমির দেবে। অসম থেকে আসা গন্ডারগুলিকে ভোপালের বন বিহার জাতীয় উদ্যানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এই মহিষের প্রত্যাবর্তন? ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৮ শতক পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে বন্য মহিষের অবাধ বিচরণ ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং চোরাশিকারের কবলে পড়ে এই প্রজাতিটি রাজ্য থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে এই মহিষগুলি কেবল অসম এবং ছত্তিশগড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দেরাদুন-ভিত্তিক ‘ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’ (WII) তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানিয়েছে যে, কানহা টাইগার রিজার্ভের পরিবেশ বন্য মহিষদের বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন: প্রকল্পটি কয়েক ধাপে সম্পন্ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫টি করে বন্য মহিষ আনা হবে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রাণীগুলিকে শিকারী-প্রতিরোধী বিশেষ ঘেরাও এলাকায় (Predator-proof enclosure) রাখা হবে যাতে তারা নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব এই উদ্যোগকে রাজ্যের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চিতা স্থানান্তর কর্মসূচির সাফল্যের পর এই প্রকল্পটি মধ্যপ্রদেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য কেবল একটি বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা নয়, বরং বনের বাস্তুতন্ত্রের সেই হারানো ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা যা একসময় প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।”