মেদিনীপুরে এ কীসের আতঙ্ক? লালের পর এবার দেখা মিলল সবুজ মাকড়সার, কামড়ালেই ঢালছে বিষ!

পশ্চিম মেদিনীপুরের জীববৈচিত্র্য যেন এক রহস্যের খনি! ২০২০ সালে লাল রঙের বিরল মাকড়সা উদ্ধারের পর এবার জেলাজুড়ে শোরগোল ফেলে দিল এক অদ্ভুত ‘সবুজ মাকড়সা’। কেশপুরের কলাগ্রামে দেখা মিলেছে শ্রীলঙ্কার বিরল প্রজাতির এই মাকড়সার, যার নাম বিজ্ঞানের ভাষায় ‘অলিওস মিলেটি’ (Olios Milleti)।
আড়ালে থেকে নিখুঁত শিকার: এই মাকড়সাটি দেখতে একেবারে গাছের পাতার মতো সবুজ। ফলে সাধারণ চোখে এদের খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তারা গাছের পাতায় ঘাপটি মেরে বসে থাকে। মধু খেতে আসা মৌমাছি বা রঙিন প্রজাপতিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিতে হামলা চালায় এই শিকারি। এমনকি নিজের শরীরের চেয়ে বড় শিকারকেও এক কামড়েই বিষ ঢেলে কাবু করতে ওস্তাদ এই মাকড়সা।
গবেষকরা কী বলছেন? কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার জানান, “এই প্রজাতিটি মূলত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় দেখা যায়। তবে পশ্চিম মেদিনীপুরে এর আগে কখনও এই মাকড়সার দেখা পাওয়া যায়নি।” এই আবিষ্কার জেলার জীববৈচিত্র্যের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।
মেদিনীপুরের ডেরায় একের পর এক রহস্য: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাটি যে বিরল প্রাণীদের স্বর্গরাজ্য, তার প্রমাণ আগেও মিলেছে:
-
লাল মাকড়সা (২০২০): মেদিনীপুর সদর ব্লকের নয়াগ্রামে পাওয়া গিয়েছিল লাল রঙের ‘ইডিওপস মেদিনী’, যা ‘ট্র্যাপডোর স্পাইডার’ নামেও পরিচিত। এটি মাটির নীচে গর্ত করে ঢাকনা দিয়ে লুকিয়ে থাকে।
-
নতুন উদ্ভিদ: সম্প্রতি ভাদুতলার জঙ্গল থেকে ‘ফসমব্রোনিয়া বেঙ্গলিনেসিস’ নামে একটি নতুন প্রজাতির উদ্ভিদও আবিষ্কার করেছেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
বিপজ্জনক না কি উপকারী? গবেষকদের মতে, এই সবুজ মাকড়সা ক্ষতিকারক মশা ও পতঙ্গ শিকার করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। খাবারের অভাব হলে এরা ফুলের রেণু বা মধু খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। বর্তমানে এই নতুন মাকড়সাটিকে জেলা জীববৈচিত্র্যের ক্যাটালগে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হঠাৎ করে বসতি এলাকায় এমন বিরল ও বিষাক্ত প্রাণীর দেখা মেলায় স্থানীয়দের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনই বেড়েছে সতর্কতা।