হাড়োয়ায় নওশাদের সভায় ধুন্ধুমার! ‘পতাকা ছিঁড়ছে তৃণমূল’, বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি আইএসএফ বিধায়কের!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় আইএসএফ-এর সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেল থেকে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। দলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতেই শাসকদলের বিরুদ্ধে উঠল মারধর ও দলীয় পতাকা খুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার আমরাডেঙী এলাকায় আয়োজিত ‘অধিকার সভা’ ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নওশাদ: এদিনের সভা থেকে নাম না করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, আইএসএফ-এর এই আধিপত্য সভা বানচাল করতে সকাল থেকেই সক্রিয় ছিল বিরোধীরা। নওশাদ বলেন, “আমাদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। এমনকি রাস্তার ধারে লাগানো দলের পতাকাগুলোও খুলে ফেলা হয়েছে।” তাঁর দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত দেখে ভয় পেয়েই এই ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এসআইআর ইস্যুতে সুর চড়ালেন বিধায়ক: কেবলমাত্র রাজনৈতিক হিংসা নয়, এদিন এসআইআর (SIR) বা বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চল নিয়েও সোচ্চার হন নওশাদ। তিনি অভিযোগ করেন:

  • এসআইআর-এর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত হয়রানি করা হচ্ছে।

  • অসুস্থ এবং বৃদ্ধ মানুষদেরও রেয়াত করা হচ্ছে না, তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে।

  • ওয়াকফ সংশোধনী বিল এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখছে না।

তপ্ত হাড়োয়ার রাজনীতি: উল্লেখ্য, ওয়াকফ সংশোধনী বিল ও এসআইআর-সহ চার দফা দাবিতে এদিনের সভার ডাক দিয়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। নওশাদ সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে পৌঁছানোর আগেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। আইএসএফ কর্মীদের দাবি, সভা সফল করতে যাতে মানুষ না আসতে পারে, তার জন্যই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে হাড়োয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে উঠল।