নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে জেরা! মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫? নজিরবিহীন নোটিশে উত্তাল বাংলা।

বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ তথা ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকে দেওয়া হলো এসআইআর (SIR) শুনানির নোটিশ! আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বীরভূমের দুই সাংসদ শতাব্দী রায় এবং অসিত মাল এই ঘটনাকে ‘দেশের লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্ভবত দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ভারতরত্ন প্রাপককে এমন শুনানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কেন এই নোটিশ? আজব যুক্তি কমিশনের!
শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’র বাসিন্দা অমর্ত্য সেনের কাছে ইআরও (ERO) এবং বিএলও (BLO) যে নোটিশ পাঠিয়েছেন, তার কারণটি অত্যন্ত চমকপ্রদ। কমিশনের দাবি:
-
এসআইআর ফর্ম অনুযায়ী, অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর মায়ের বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর।
-
এই ‘অস্বাভাবিক’ পার্থক্যের ব্যাখ্যা চেয়েই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
-
পাশাপাশি, ২০০২ সালের নথিপত্রও তলব করা হয়েছে তাঁর কাছ থেকে।
“বাংলার কৃষ্টি বোঝে না ওরা”: ফুঁসে উঠলেন শতাব্দী
বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের কটাক্ষ, “বিজেপি বাংলার আবেগ বা কৃষ্টি কিছুই বোঝে না। এর আগে ওঁরা ‘বঙ্কিম-দা’ বা ‘রবীন্দ্র সান্যাল’ বলে নিজেদের অজ্ঞতা প্রমাণ করেছে। অমর্ত্য সেনের নাম এখানকার বাচ্চারাও জানে, তাঁকে নোটিশ পাঠানো চূড়ান্ত অপমানজনক।”
অন্যদিকে, বোলপুরের সাংসদ অসিত মালের সাফ কথা, “যিনি বিশ্ব দরবারে ভারতকে গর্বিত করেছেন, তাঁকে এভাবে হেনস্থা করা মানে গোটা দেশকে অপমান করা। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন নিজেদের জঘন্য মানসিকতার পরিচয় দিল।”
অভিষেকের হাত ধরেই প্রকাশ্যে বিতর্ক
মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভা থেকে এই ইস্যুটি প্রথম তুলে ধরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই বক্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে খোদ অমর্ত্য সেনকে নোটিশ পাঠানোয় সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এর আগে এনআরসি-সিএএ ইস্যুতেও সরব হয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। ফলে এই নোটিশের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।