দিলীপের ডিগবাজি! ‘মন্ত্রী হতে চাই’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল, তুঙ্গে জল্পনা!

বঙ্গ রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষ মানেই বিতর্ক আর খুরধার মন্তব্য। কিন্তু এবার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নিজের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন বিজেপির এই দাপুটে নেতা। গতকাল রানাঘাটের সভা থেকে সগর্বে ‘মন্ত্রী’ হওয়ার বাসনা প্রকাশ করলেও, আজ তাঁর মুখে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর— “মন্ত্রী কেন, আমি তো বুথ সভাপতিও হতে চাই না!”

চব্বিশ ঘণ্টায় কেন এই ভোলবদল?

মঙ্গলবার রানাঘাটে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র মঞ্চে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে দিলীপ ঘোষণা করেছিলেন, “পরিবর্তন তো হবেই, আমরা একটু তাড়াতাড়ি চাইছি। লোকে বলতে পারে আমি বোধহয় মন্ত্রী হতে চাইছি। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই হব! মন্ত্রী না হলে আপনাদের জীবনে পরিবর্তন আসবে কী করে?”

কিন্তু বুধবার হাবরার সভার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেজাজ বদলে ফেলেন তিনি। দিলীপের দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখনও দিলীপ ঘোষকে বুঝতে সময় লাগবে। আমি বলেছি সরকার গঠন হবে, মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীও হবে। দিলীপ ঘোষ মন্ত্রী বা বুথ সভাপতি হতে আসেনি, পরিবর্তন করতে এসেছে।”

নেপথ্যে কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘ধমক’?

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দিলীপের এই হঠাত্‍ সুর বদলের পিছনে রয়েছে দিল্লির কড়া বার্তা। দীর্ঘ সময় কোণঠাসা থাকার পর সম্প্রতি অমিত শাহের বঙ্গ সফরের হাত ধরে সংগঠনের মূল স্রোতে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু সূত্রের খবর, দিলীপের লাগামহীন মন্তব্যে দল যাতে বিড়ম্বনায় না পড়ে, তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্ভবত সেই ‘সেন্সর’ বা সতর্কবার্তার জেরেই নিজের ‘মন্ত্রী’ হওয়ার ইচ্ছা থেকে পিছু হটলেন তিনি।

প্রাসঙ্গিক হওয়ার লড়াই

অমিত শাহের সফরের পর শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ময়দানে নেমেছেন দিলীপ। রানাঘাটের পর হাবরার সভায় তাঁর সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তবে তাঁর এই ‘এক মুখে দুই কথা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা।

একদিকে রাজ্যে সরকার গড়ার স্বপ্ন, আর অন্যদিকে পদের মোহ ত্যাগ— দিলীপ ঘোষের এই দুই ভিন্ন মেরুর মন্তব্য এখন বঙ্গ বিজেপির অন্দরে সবথেকে বড় চর্চার বিষয়।