৫৪ বছর ধরে একই টান! ৮৪ বছরের জাপানি বৃদ্ধের প্রেমে মজেছে দার্জিলিংয়ের ‘খেলনা গাড়ি’, অবাক করবে তাঁর জেদ।

রাজনীতি বদলেছে, সময় বদলেছে, বদলেছে পাহাড়ের প্রকৃতিও। কিন্তু যা বদলায়নি, তা হল ৮৪ বছরের জাপানি বৃদ্ধ সিইয়া সুগাওয়াারা-র টয়ট্রেনের প্রতি ভালোবাসা। গত ৫৪ বছর ধরে প্রতি বছরই জাপানের টোকিও থেকে একদল পর্যটক ছুটে আসেন শুধুমাত্র দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) প্রেমে।
ট্রেন ভাড়া করলেন, কিন্তু চড়লেন না কেন?
এবারের সফরে এক অদ্ভুত ও নস্টালজিক ঘটনার সাক্ষী থাকল পাহাড়। জাপানি পর্যটকদের এই দলটি শিলিগুড়ির এনজেপি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত একটি আস্ত চার্টার্ড ট্রেন ভাড়া করেছিলেন। কিন্তু ট্রেনের সিটে আরাম করে বসার বদলে তাঁরা সারপথ ট্রেনের সঙ্গে হেঁটে বা সমান্তরালভাবে থেকে স্টিম ইঞ্জিনের কারিকুরি লক্ষ্য করলেন। তাঁদের সাফ কথা— ডিজেল ইঞ্জিন নয়, কয়লাচালিত ধোঁয়া ওঠা আদি ও অকৃত্রিম স্টিম ইঞ্জিনের বাঁশি আর চাকার ছন্দই তাঁদের আসল পাওনা। ক্যামেরা হাতে ৮৪ বছরের সুগাওয়াারা ফ্রেমবন্দি করলেন হেরিটেজ ট্রেনের প্রতিটি মুহূর্ত।
৩৬তম বার দার্জিলিংয়ে ৮৪ বছরের ‘তরুণ’
টোকিওর বাসিন্দা সিইয়া সুগাওয়াারা এবার নিয়ে ৩৬ বার দার্জিলিংয়ে এলেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ৬ বন্ধুকেও। লাঠি হাতেও তাঁর উৎসাহ কোনও যুবকের চেয়ে কম নয়। অশ্রুভেজা চোখে সুগাওয়াারা বলেন:
“বয়স হয়েছে অনেক, হয়তো এটাই আমার শেষ দার্জিলিং সফর। কিন্তু যতদিন বাঁচব, এই কয়লার ইঞ্জিনের টানে বারবার ফিরে আসতে চাইব। টয়ট্রেন আর দার্জিলিং আমাকে প্রতিবার নতুন করে বাঁচতে শেখায়।”
ডিএইচআর-এর রাজকীয় আতিথেয়তা
১৯৭১ সাল থেকে চলে আসা এই নিবিড় সম্পর্ককে সম্মান জানাতে ভোলেনি রেল কর্তৃপক্ষও। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ে এই বিশেষ দলটির জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ডিএইচআর ডিরেক্টর রিশভ চৌধুরী। মেনুতে ছিল জিভে জল আনা খাঁটি নেপালি খাবার। ডিরেক্টর জানান, “জাপানি পর্যটকদের এই দলটি আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাঁরা দেশে ফিরেও টয়ট্রেনের প্রচার করেন।”
পর্যটকদের জন্য সুখবর: বাড়ছে ‘জয় রাইড’
বর্তমানে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত ৮টি জয় রাইড চললেও পর্যটকদের ভিড় সামাল দেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। এক মাস আগেই সব টিকিট শেষ! তাই পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে ডিএইচআর আরও ৪টি অতিরিক্ত জয় রাইড চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।