বিশেষ: কোটি টাকার জাহাজ ডুবে গেলে উদ্ধার করা হয় না কেন? জেনেনিন নেপথ্য কারণ

আধুনিক সভ্যতার প্রসারে জাহাজের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সমুদ্রের ইতিহাস যতটা গৌরবের, ঠিক ততটাই যন্ত্রণার। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমুদ্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ মিলিয়ন (৩০ লক্ষ) জাহাজ ডুবে গিয়েছে। যুদ্ধ, ঘূর্ণিঝড় বা সংঘর্ষের কারণে তলিয়ে যাওয়া এই জাহাজগুলোর সঙ্গে সমুদ্রের নিচে পড়ে আছে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের সম্পদ। তবুও কেন এগুলো উদ্ধার করা হয় না? জানুন আসল কারণ। (ছবি- সংগৃহীত)

১. উদ্ধার খরচ যখন নির্মাণব্যয়ের চেয়ে বেশি: সবচেয়ে বড় বাধা হলো অর্থ। একটি জাহাজ জল থেকে তোলার খরচ অনেক সময় তার মূল দামের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি হয়ে যায়। যেমন, ২০১২ সালে ডুবে যাওয়া কস্টা কনকর্ডিয়া উদ্ধারে খরচ হয়েছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা জাহাজটি বানানোর খরচের চেয়ে তিন গুণ বেশি!

২. অবস্থান ও জীর্ণ দশা: সমুদ্রের গভীরতা এবং প্রতিকূল পরিবেশে সব জাহাজের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা এখনও অসম্ভব। আবার অবস্থান জানা থাকলেও বছরের পর বছর নোনা জলে থাকার ফলে জাহাজের কাঠামো এবং মূল্যবান যন্ত্রাংশ পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা উদ্ধার করলেও কোনো কাজে লাগে না।

৩. সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা: দীর্ঘদিন জলের নিচে থাকার ফলে জাহাজগুলো কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীরে (Coral Reefs) পরিণত হয়। এটি সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। পরিবেশের স্বার্থেই অনেক সময় এগুলো উদ্ধার করা নিষিদ্ধ।

৪. সামরিক দর্শন (Military Philosophy): সামরিক জাহাজের ক্ষেত্রে নিয়মটি আলাদা। নৌবাহিনীর দর্শনে বিশ্বাস করা হয়— “যে যেখানে ধ্বংস হয়েছে, তাকে সেখানেই কবর দেওয়া হয়েছে।” তাই হাজারো আবেগ ও ঐতিহ্য জড়িয়ে থাকায় মূল্যবান সামরিক ধ্বংসাবশেষও আর জল থেকে তোলা হয় না।

৫. আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা: একটি জাহাজ উদ্ধারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক মহলের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে অনেক সময় কোম্পানিগুলো আর জাহাজ উদ্ধারে আগ্রহ দেখায় না।