“গোপনাঙ্গ স্পর্শ করানো মারাত্মক যৌন অপরাধ”-জানালো দিল্লি হাইকোর্ট

শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন অপরাধ দমন বা পকসো (POCSO) আইন নিয়ে এক ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি কোনো শিশুকে দিয়ে জোরপূর্বক কারো গোপনাঙ্গ স্পর্শ করানো হয়, তবে সেটি পকসো আইনের আওতায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’ (Aggravated Sexual Assault) বা মারাত্মক যৌন নিগ্রহ হিসেবেই গণ্য হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সাজা ঘটনাটি ছিল চার বছরের এক শিশুকন্যার ওপর যৌন নির্যাতনের। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির সামনে অশালীন আচরণ করে এবং জোর করে তাকে দিয়ে নিজের গোপনাঙ্গ স্পর্শ করায়। এই অপরাধে ২০২৪ সালে নিম্ন আদালত তাকে পকসো আইনের ১০ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই সাজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল অভিযুক্ত।
বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ মঙ্গলবার অভিযুক্তের সেই আপিল খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণা জানান:
পকসো আইন অনুযায়ী, ১২ বছরের চেয়ে কম বয়সি শিশুর ওপর যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতনই ‘অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল অ্যাসল্টের’ পর্যায়ভুক্ত।
অভিযুক্ত দাবি করেছিল যে নির্যাতনের পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই, কিন্তু দিল্লি মহিলা কমিশনের (DCW) কাউন্সেলিং এবং নাবালিকার বয়ান সব সময় সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের অপরাধ শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে অপরাধীর সাজা কমানোর বা তাকে মুক্তি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।