বার কাউন্সিলে টাকার পাহাড়? এবার ED-CBI তদন্তের দাবি হাইকোর্টে! বিপাকে প্রভাবশালীরা?

নির্বাচনের ঠিক মুখেই এবার বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল। আইনজীবীদের ওয়েলফেয়ার ফান্ডের টাকা নিয়ে কি তবে নয়ছয় হয়েছে? এই প্রশ্ন তুলেই এবার ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী সুবীর সেনগুপ্ত। মামলাটির গুরুত্ব বিচার করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও আগামী ৭ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

অভিযোগের তির কোথায়? মামলাকারীর দাবি, আইনজীবীদের কল্যাণের জন্য যে বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয়, তা সঠিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ওকালতনামা বা নতুন আইনজীবীদের এনরোলমেন্টের সময় নেওয়া টাকা ঠিক কোথায় যাচ্ছে, তার যথাযথ হিসেব নেই। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের অফিস সিজ করে তদন্ত চালানো প্রয়োজন।

মঞ্চে ‘অসীম রায়’ বিতর্ক: বার কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমারের রায়ের উপস্থিতি নিয়েও সুর চড়িয়েছে বিরোধী আইনজীবীদের একাংশ। মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “সব কিছুতেই কি তবে অসীম রায়? মেসি যেমন ফুটবল মাঠে সবখানে থাকেন, এখানেও কি তেমনটাই হচ্ছে?” নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ইডি-সিবিআই তদন্তের দাবি জোরালো করা হয়েছে।

আইনজীবীদের ক্ষোভের ৫টি প্রধান কারণ:

  • ভোটের আগেই তালিকা বিতর্ক: খসড়া ভোটার তালিকা থেকে অনেক প্রকৃত আইনজীবীর নাম বাদ পড়ার অভিযোগ।

  • মনোনয়ন ফি-র বোঝা: প্রার্থী হতে হলে দিতে হবে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা! সাধারণ আইনজীবীদের জন্য যা আকাশকুসুম।

  • বেআইনি ল কলেজ: গত কয়েক বছরে হুটহাট করে ১১ থেকে ৫৫টি ল কলেজ কীভাবে গজিয়ে উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন।

  • তহবিল তছরুপ: অ্যাডভোকেট ওয়েলফেয়ার ফান্ডের অর্থ অন্য কাজে ব্যবহারের সন্দেহ।

  • কমিটি জট: পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই কীভাবে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হলো, তা নিয়ে আইনি বৈধতার প্রশ্ন।

আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী মার্চের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন শেষ করার কথা। কিন্তু দুর্নীতির এই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে। আগামীকাল অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি এই মামলার দিকেই তাকিয়ে গোটা আইনজীবী মহল।