“কেষ্টদা ২৩০ চাইলে, আমি ২৫০ চাইব!” বীরভূমের মাটি থেকে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভা থেকে একদিকে যেমন তিনি অনুব্রত মণ্ডলের (কেষ্ট) সুরেই টার্গেট সেট করে দিলেন, অন্যদিকে নাম না করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে দাগিয়ে দিলেন।
কেষ্টর ২৩০ বনাম অভিষেকের ২৫০ এদিন ভাষণের শুরুতেই জেলফেরত বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টানেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমি সভা শেষ করে মা তারার মন্দিরে যাব। গতকাল কেষ্টদা বলেছেন, মাকে বলে এসেছেন তৃণমূলকে যেন ২৩০টি আসন দেওয়া হয়। আমি আজ আরও ২০টি বাড়িয়ে বলব— মা, বাংলাকে রক্ষা করতে তৃণমূলকে ২৫০টি আসনে জেতাতে হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রতর নাম মুখে এনে অভিষেক আদতে বীরভূমের কর্মীদের এককাট্টা হওয়ার বার্তাই দিলেন।
হেলিকপ্টার বিতর্ক ও ‘হেমন্ত কানেকশন’ এদিন সভায় আসতে দেরি হওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তিনি জানান, তাঁর হেলিকপ্টারকে সকাল ১১টায় ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিষেকের কথায়, “ওরা ভেবেছিল কপ্টার আটকে আমাকে থামিয়ে দেবে। আমার ১০ গুণ জেদ। দরকার হলে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে আসতাম। শেষ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কপ্টার আনিয়ে এখানে এসেছি। ধমকানি-চমকানি দিয়ে আমাকে আটকানো যাবে না।”
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ ও বুথ টার্গেট বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “যে দল এখন ৭০টা আসন পেয়ে একটা গরিব ছেলেকে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার অপরাধে মারছে, তারা জিতলে বাংলার কী হাল করবে?” বীরভূমের দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট টার্গেট দিয়ে তিনি বলেন, “একুশের ভোট ভালো ছিল, কিন্তু এবার বীরভূমে ১১-০ করতে হবে। জেলার ৩৬০০ বুথের প্রতিটিতে লিড বাড়াতে হবে। বিজেপিকে এই মাটিতে শূন্য করে দিন।”