“মালদায় আবার ‘মৌসম’ বদল!”-৭ বছর কেন মমতার হাত ছেড়ে কংগ্রেসে মৌসম বেনজির নূর?

ঠিক ৭ বছর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মালদার রাজনীতিতে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, ২০২৬-এর শুরুতে যেন তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। গনিখান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম বেনজির নূর কোলকাতা ও নবান্নের মায়া কাটিয়ে ফের ফিরলেন কংগ্রেসের হাত ধরতে। ৭ বছর আগে যাঁকে রাহুল গান্ধী ‘ট্রেটর’ বা বিশ্বাসঘাতক বলেছিলেন, আজ সেই মৌসমকেই ‘জানলা নয়, দরজা খুলে’ স্বাগত জানাল প্রদেশ কংগ্রেস।
তৃণমূল সফর ও মোহভঙ্গ: ২০১৯ সালে তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম। লক্ষ্য ছিল জোট করে বিজেপিকে রোখা। কিন্তু জোট হয়নি, উল্টে কংগ্রেসের শক্ত গড় মালদায় টানা দু’বারের সাংসদ মৌসম ২০১৯-এর লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে হারের স্বাদ পান। ২০২১-এর বিধানসভাতেও দেখা যায়, মালদার ১২টি আসনের মধ্যে একটিতেও খাতা খুলতে পারেনি কংগ্রেস। এমনকি গনি পরিবারের খাসতালুক ‘সুজাপুর’ চলে যায় তৃণমূলের দখলে।
কেন এই প্রত্যাবর্তন? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মৌসমের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বারবার ‘বরকত সাহেবের ঐতিহ্য’ এবং ‘পারিবারিক সিদ্ধান্তে’র কথা তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলে গিয়ে মৌসম বুঝেছেন যে গনি পরিবারের আবেগ ছাড়া মালদায় তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে বঙ্গে তৃণমূল-কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। এমতাবস্থায় নিজের জমি ফিরে পেতেই পুরনো ঘরে ফেরা মৌসমের।
কংগ্রেসের লাভ না লোকসান? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের এই ‘দরজা খুলে দেওয়া’র নীতি কি কাজ করবে? মালদায় এখন শুধু তৃণমূল নয়, বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। ২০২১-এ শূন্য হাতে ফেরা কংগ্রেস কি মৌসমকে সামনে রেখে সেই ‘গনি আবেগ’কে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে? যদি সুজাপুর বা বৈষ্ণবনগরের মতো আসনগুলো ফের কংগ্রেসের ঝুলিতে আসে, তবেই এই ‘ঘরওয়াপসি’ সার্থক হবে।
শুভেন্দুর সেই অঙ্ক ও বর্তমান বাস্তবতা: মৌসমকে তৃণমূলে টেনেছিলেন যে শুভেন্দু অধিকারী, তিনি আজ বিজেপির প্রধান সেনাপতি। শুভেন্দু দাবি করছেন বিজেপি ২২০ আসন পাবে, অন্যদিকে মৌসম বলছেন তাঁর প্রধান শত্রু বিজেপি। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে মালদার মানুষ গনিখানের ভাগ্নির এই ‘ভোলবদল’কে কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার।