অভিষেকের সভার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাজিক! ট্রাক্টর ছেড়ে এবার ‘ঝা-চকচকে’ বাসে স্কুলে যাবে চা-শ্রমিকদের সন্তানরা

উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ মেটাতে এবার রণক্ষেত্রের তৎপরতায় নামল রাজ্য প্রশাসন। শনিবার আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় রহিমাবাদ চা বাগানের শ্রমিক জয়ন্ত ওরাওঁ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁদের সন্তানদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক্টরে করে স্কুলে যেতে হয়। তৃণমূল সাংসদ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আর সেই প্রতিশ্রুতির ঠিক পরদিনই আলিপুরদুয়ারে পৌঁছে গেল ৫টি অত্যাধুনিক স্কুল বাস।

সোমবার থেকেই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (NBSTC) সহযোগিতায় এই বাসগুলি নির্দিষ্ট রুটে চলাচল শুরু করবে। ডেকপাপাড়া থেকে বীরপাড়া কিংবা টোটোপাড়া থেকে মাদারিহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ৩ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেনা এই বাসগুলি পরিষেবা দেবে। ধাপে ধাপে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের অন্যান্য বাগানেও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে শ্রম দফতর সূত্রে খবর।

তবে এই উন্নয়নকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই চা-শ্রমিকদের মন জয়ে মরিয়া দু-পক্ষই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দেগেছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি দাবি করেছেন, মজুরি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত হওয়া উচিত এবং দেরিতে পেমেন্ট দিলে আরও বেশি টাকা দিতে হবে। বাসের কৃতিত্ব নিয়ে কাজ শুরু হলেও চা-বলয়ের শ্রমিকদের ‘ন্যূনতম মজুরি’ নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের লড়াই এখন তুঙ্গে।