গঙ্গাসাগর মেলায় রেকর্ড ভিড় সামলাতে শিয়ালদহ ডিভিশনের মাস্টারপ্ল্যান! কী কী সুবিধা পাবেন পুণ্যার্থীরা?

গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় সামলাতে এবং যাত্রী পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল শিয়ালদহ ডিভিশন। সোমবার শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার (SR DCM) যশরাম মীণা এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। টিকিট চেকিং স্টাফ এবং কমার্শিয়াল সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাত্রী সেবায় জোর: ব্যবহারের ওপর বিশেষ নজর বৈঠকে যশরাম মীণা স্পষ্ট জানান, রেলকর্মীদের আচরণই হবে পরিষেবার আয়না। বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত বয়স্ক ও ভিনরাজ্যের যাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য কর্মীদের সহানুভূতিশীল থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

টিকিট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও এম-ইউটিএস-এর প্রয়োগ মেলা চলাকালীন টিকিট কাউন্টারে ভিড় এড়াতে এম-ইউটিএস (M-UTS) মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার খোলা এবং পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—যাতে কোনও যাত্রীকেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে না হয়।

বিভ্রান্তি এড়াতে রিয়েল-টাইম তথ্য ট্রেনের সঠিক সময়সূচি, প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন বা মেলা স্পেশাল ট্রেনের তথ্য নিয়ে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না ছড়ায়, তার জন্য অনুসন্ধান ডেস্কের কর্মীদের সদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্টেশন চত্বরে নিয়মিত ও স্পষ্ট মাইকিং করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে যাতে পুণ্যার্থীরা সহজেই গন্তব্য খুঁজে পান।

মাঠপর্যায়ে কড়া নজরদারি পুরো মেলা চলাকালীন কমার্শিয়াল সুপারভাইজারদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি বা উদ্ভূত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে রেল প্রশাসন বদ্ধপরিকর। শিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গঙ্গাসাগর যাত্রীদের নিরাপদ, সুসংগঠিত এবং আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করাই তাদের মূল লক্ষ্য।