হাসিনার আমলে ৪-৬ হাজার মানুষ ‘গুম’! পৈশাচিক সব তথ্য উঠে এল তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে, তোলপাড় ওপার বাংলা!

শেখ হাসিনার শাসনকালে বাংলাদেশে ঠিক কতজন নাগরিককে ‘গুম’ করা হয়েছিল? তার এক হাড়হিম করা পরিসংখ্যান তুলে ধরল গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। রবিবার প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ৪ থেকে ৬ হাজার মানুষকে বলপূর্বক নিখোঁজ বা ‘গুম’ করে দেওয়া হয়েছিল।

“পৈশাচিক ঘটনা”— মন্তব্য ডঃ ইউনূসের

রিপোর্টটি হাতে পাওয়ার পর রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি কমিশনের সদস্যদের বলেন, রিপোর্টে যা উঠে এসেছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য ‘পৈশাচিক’ ছাড়া অন্য কোনো শব্দ নেই। ডঃ ইউনূস স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে আর কোনোদিন এমন কালো দিন দেখতে হবে না। তিনি এই রিপোর্টের সারাংশ সহজ ভাষায় দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

কাদের টার্গেট করা হতো?

কমিশনের তথ্যানুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী।

  • নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী।

  • সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-র ২২ শতাংশ কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন।

  • কমিশনের কাছে জমা পড়া ১৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সরাসরি যোগ

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশেই বিরোধী নেতাদের গুম ঘরে পাঠানো হতো। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে: ১. মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক (হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা) ২. আসাদুজ্জামান খান কামাল (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)

ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য

কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, গুম হওয়া অনেককে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নিখোঁজ অনেকের পরিবার ভয়ে বা অজ্ঞতার কারণে এখনও অভিযোগ জানাননি, তাই প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা কমিশনের।

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার এই অধ্যায়ের বিচার এখন কীভাবে হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি।