২০২৬-এ কত বাহিনী নামবে বাংলায়? সোমবার দিল্লিতে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক, বড় সিদ্ধান্তের পথে কমিশন!

রাজ্যে বেজে গিয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। আর ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— বাংলায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে? এই জট কাটাতে এবং নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতে আগামীকাল, সোমবার দুপুর ১২টায় দিল্লির নির্বাচন সদনে এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়

এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকরা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসাররা। মূলত যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে:

  • বাহিনীর সংখ্যা: গত ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ১০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

  • অতীতের অভিজ্ঞতা: ২০২১-এর বিধানসভা এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বাহিনীর ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

  • রুট মার্চ: ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভোট ঘোষণার কতদিন আগে থেকে বাহিনী দিয়ে এরিয়া ডমিনেশন বা রুট মার্চ শুরু হবে, তার রূপরেখা তৈরি হবে।

দিল্লিতে বড় তোড়জোড়

সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন এবার প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পক্ষপাতী। তবে একই সময়ে আসাম, তামিলনাড়ু ও কেরলের মতো রাজ্যগুলিতেও নির্বাচন থাকায় বাহিনীর বণ্টন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এদিনের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের কত শতাংশ এবং কেন্দ্রের কত শতাংশ বাহিনী ব্যবহার করা হবে, তারও একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি হতে পারে।

প্রস্তুতিতে খামতি রাখছে না কমিশন

ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য প্রশাসনের বেশ কয়েকজন আধিকারিককে শোকজ ও সাসপেন্ড করেছে কমিশন। ফলে এবারের নির্বাচন যে নজিরবিহীন কড়াকড়ির মধ্যে হতে চলেছে, সোমবারের এই বৈঠক তারই প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।