যৌনকর্মীদের নাম কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে? ৪ দাওয়াই নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া চলছে। হিয়ারিং চলাকালীনই যোগ্য ভোটারদের সুবিধার্থে অত্যন্ত মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মূল মন্ত্র এবার— ‘নো এলিজেবল সিটিজেন ইজ লেফট আউট’ অর্থাৎ, কোনো যোগ্য নাগরিকই যেন তালিকার বাইরে না থাকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পক্ষ থেকে এই মর্মে একগুচ্ছ নতুন গাইডলাইন পাঠানো হয়েছে জেলাগুলিতে।
যাদের কাছে নথি নেই, তাঁদের কী হবে? মূলত যৌনকর্মী, বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অদিবাসী গোষ্ঠী (PVTG) এবং আশ্রমে বসবাসকারী ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে গিয়ে বড়সড় বাধার মুখে পড়তে হয়। কারণ, তাঁদের অনেকের কাছেই ২০০২ সালের কোনো লিঙ্কেজ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে না। এই জটিলতা কাটাতেই কমিশন একগুচ্ছ বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেছে।
কমিশনের নয়া ৪ দাওয়াই: ১. অন-সাইট ভ্যারিফিকেশন: যাদের কাছে নথির অভাব রয়েছে, তাঁদের জন্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়ে যাচাই করবেন। ২. ভিডিও রেকর্ডিং: জালিয়াতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার আর শুধু কাগজ-কলমে কাজ হবে না। পুরো যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে। এরপর একটি ‘যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা’ বা এলিজেবল লিস্ট তৈরি হবে। ৩. বিএলএ-দের মতামত: স্থানীয় বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) মতামতকে এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে, কারণ তাঁরা এলাকার বাসিন্দাদের চেনেন। ৪. চূড়ান্ত ক্ষমতা ERO-র হাতে: সমস্ত রিপোর্ট ও ভিডিও খতিয়ে দেখার পর কোনো ব্যক্তির নাম তালিকায় উঠবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)।
কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে নথিহীন প্রান্তিক মানুষদের ভোটাধিকার পাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হলো। বিশেষ করে সোনাগাছি থেকে শুরু করে আদিবাসী এলাকাগুলিতে কমিশনের এই ক্যাম্পগুলি বড়সড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।