এসপ্ল্যানেড থেকে সোজা ডায়মন্ড হারবার বা সিঙ্গুর! মেট্রো নিয়ে মমতার সেই অবিশ্বাস্য মাস্টারপ্ল্যান

কলকাতা মেট্রো এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আপনি কি জানেন, এক সময় এমন কিছু রুট পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা বাস্তবায়িত হলে আপনাকে আর লোকাল ট্রেনের ভিড়ে চ্যাপ্টা হতে হতো না? বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি শহরতলির দূর-দূরান্তের এলাকাকে মেট্রোর মানচিত্রে আনার এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনা করেছিলেন।
অতীতের সেই মেগা পরিকল্পনা: বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ৭৩ কিমি পথে মেট্রো চলে। কিন্তু প্রস্তাবিত সেই ৭টি রুট চালু হলে কলকাতা ও শহরতলির দূরত্ব ঘুচে যেত। ভাবুন তো, এসপ্ল্যানেড থেকে মেট্রোয় উঠে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছেন ডায়মন্ড হারবার কিংবা সিঙ্গুরে! শুনতে অবাক লাগলেও তৎকালীন রেল বাজেটে এই রুটগুলোর প্রস্তাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে।
কী ছিল সেই ৭টি জাদুকরী রুট? ১. জোকা থেকে ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষের জন্য স্বপ্নের রুট। ২. হাওড়া ময়দান থেকে সিঙ্গুর-শ্রীরামপুর: ডানকুনি হয়ে এই রুটটি শিল্পাঞ্চলকে জুড়ত শহরের সঙ্গে। ৩. বারুইপুর থেকে কবি সুভাষ: বাইপাসের ধারের মানুষের জন্য ছিল বড় উপহার। ৪. হাওড়া ময়দান থেকে ধুলাগড়: সাঁতরাগাছি হয়ে এই মেট্রো বাণিজ্যনগরীকে আরও সচল করত। ৫. ব্যারাকপুর থেকে কল্যাণী: উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলার সংযোগকারী পথ। ৬. হাওড়া ময়দান থেকে বেলুড়: পর্যটন ও তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ রুট। ৭. জোকা থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার: বেহালা অঞ্চলের জন্য এক বিকল্প পথ।
এই পরিকল্পনাগুলো সফল হলে আজ কল্যাণী থেকে ডায়মন্ড হারবার—গোটা দক্ষিণবঙ্গ মেট্রোর জালে ধরা দিত। যাতায়াত হতো ঝঞ্ঝাটমুক্ত এবং অতি দ্রুত। যদিও বর্তমান কাজ চলছে প্রায় ২৮ কিমি পথে, কিন্তু শহরতলিকে জোড়ার সেই বিশাল স্বপ্ন আজও ফাইলবন্দি হয়ে রয়ে গেছে।