২০২৬-এ বিজেপিই গড়বে সরকার! দুর্নীতির লঙ্কা দহন করতে বাংলা থেকে কড়া হুঙ্কার অমিত শাহর

কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম্পন ধরিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার বঙ্গ সফরে এসে তিনি একদিকে যেমন শাসকদল তৃণমূলকে তুলোধুনো করলেন, অন্যদিকে মতুয়া ও রাজবংশী ভোট ব্যাংকের ওপর বিজেপির পূর্ণ কর্তৃত্বের দাবি তুললেন এক অভিনব কায়দায়। এসআইআর (SIR) এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলা টানাপোড়েনের মাঝে শাহর এই সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘মতুয়া ভোট আমার পকেটে’ এদিন মতুয়া ও রাজবংশী ভোট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে অমিত শাহ বলেন, “আমিই জমিদার! আপনাদের ভাববার কোনো কারণ নেই।” অর্থাৎ, এই দুই বৃহৎ ভোট ব্যাংক যে বিজেপির সাথেই রয়েছে, তা তিনি পরিষ্কার করে দেন। পাশাপাশি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তাঁর ঘোষণা—এবারে লক্ষ্য শুধু ‘২০০ পার’ নয়, বরং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসা।
সেটিং তত্ত্বের কড়া জবাব রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বাম ও কংগ্রেস দাবি করে আসছে যে ‘মোদী-দিদি’ সেটিং রয়েছে। এই জল্পনা উড়িয়ে শাহ পাল্টা প্রশ্ন করেন, “সেটিং থাকলে এত নেতা বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলায় কেন আসতেন? কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে ৩ দিন ধরে বৈঠক করছি?” তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মীদের বুথ স্তরে লড়াই করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারের রণকৌশল সাজাতে হবে।
মমতা সরকারকে আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৪ বছরের শাসনকে ‘ভয় ও দুর্নীতির শাসন’ বলে অভিহিত করেন শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, মোদীর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বাংলায় ‘তোলাবাজ সিন্ডিকেট’-এর কারণে পৌঁছাতে পারছে না। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হবে এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বঙ্গভূমিতে সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটবে।