সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের জেলে সেঙ্গার! উন্নাও গণধর্ষণ মামলার সেই অন্ধকার কাহিনী

উত্তরপ্রদেশের উন্নাও গণধর্ষণ মামলা—যা কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং ক্ষমতা ও রাজনীতির দম্ভের এক কালিমালিপ্ত অধ্যায়। সম্প্রতি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের সাজার ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ফের জেলে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৭ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর উন্নাওয়ের সেই বিভীষিকা আবারও দেশজুড়ে চর্চায়।
২০১৭: শুরু হলো সেই অভিশপ্ত যাত্রা বাঙ্গারমাউয়ের দাপুটে বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার তখন রাজনীতির তুঙ্গে। ৪ জুন, ২০১৭—এক নাবালিকা কিশোরী অভিযোগ করেন যে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁকে বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সেঙ্গার তাঁকে ধর্ষণ করেন। পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতে এফআইআর নিতে অস্বীকার করা হয়। নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ করে, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত হুমকি আসছিল তাদের কাছে।
বাবার রহস্যমৃত্যু ও নির্যাতিতার আত্মদহন চেষ্টা প্রায় ১০ মাস দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাননি ওই কিশোরী। ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল বিধায়কের ভাই অতুল সিং নির্যাতিতার বাবাকে নির্মমভাবে মারধর করেন এবং পুলিশ তাঁকে একটি পুরনো মামলায় জেলে পাঠায়। কয়েকদিন পরেই জেল হেফাজতে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার বাবার। সুবিচারের আশায় ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল লখনউয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অফিসের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। এই ঘটনাই গোটা দেশের নজর কেড়ে নেয় উন্নাওয়ের দিকে।
রহস্যজনক দুর্ঘটনা ও সুপ্রিম হস্তক্ষেপ তদন্তের ভার নেয় সিবিআই। বিধায়ক সেঙ্গারকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বিপর্যয় থামেনি। ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই নির্যাতিতা যখন রায়বরেলি জেলে তাঁর কাকার সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলেন, এক বিশাল ট্রাক তাঁর গাড়িতে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় কিশোরীর দুই কাকিমা ও আইনজীবী মারা যান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিল্লির এইমস-এ ভর্তি করা হয় নির্যাতিতাকে। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে মামলাটি দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আইনি জটিলতা ও সেঙ্গারের পরিবার সম্প্রতি হাইকোর্ট প্রযুক্তিগত কারণে সেঙ্গারের সাজা স্থগিত করে জামিন দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর ভাষায় জানায় যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সেঙ্গারকে ফের জেলে ফিরে যেতে হবে। অন্যদিকে, সেঙ্গারের দুই মেয়ে ঐশ্বর্য ও ঈশিতার দাবি, তাঁদের বাবা নির্দোষ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।
উন্নাও মামলাটি প্রমাণ করে দেয় যে, ক্ষমতার লড়াইয়ে একজন সাধারণ মেয়ের বিচার পাওয়ার পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে।