সাঁচি হবে দেশের এক নম্বর ব্র্যান্ড! দুগ্ধ উৎপাদনে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে বড় ছক মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের

মধ্যপ্রদেশের অর্থনীতিতে এক বিরাট বদল আনতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের সরকার। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে রাজ্যের ২৬,০০০ গ্রামে দুগ্ধ সমবায় ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে পশুপালন ও দুধ উৎপাদনকে কর্মসংস্থানের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড (NDDB) এবং রাজ্য দুগ্ধ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন।
কর্মসংস্থানের নতুন দিশা: ডেইরি টেকনোলজি মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দুধ উৎপাদন ও বিপণন কেবল কৃষির অংশ নয়, এটি একটি শিল্প। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে রাজ্যের শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে (ITI) দুগ্ধ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ কোর্স চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে স্থানীয় যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি ডেইরি প্ল্যান্টগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
সাঁচি ব্র্যান্ডের ভোলবদল রাজ্যের নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘সাঁচি’-কে আরও জনপ্রিয় করতে ব্র্যান্ডিংয়ে বদল আনা হচ্ছে। এখন থেকে সাঁচি পণ্যের লোগো বা ব্র্যান্ডিংয়ে গরু ও গবাদি পশুর ছবি থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, NDDB দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাঁচি ব্র্যান্ডের ওপর মানুষের ভরসা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই ১২৪১টি নতুন দুগ্ধ সমবায় গঠিত হয়েছে এবং বন্ধ থাকা ৬৩৫টি সমবায়কে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। দুধের সংগ্রহমূল্যও প্রতি লিটারে ২.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৫০ টাকা করা হয়েছে, যা সরাসরি কৃষকদের পকেটে অতিরিক্ত অর্থ নিশ্চিত করবে।
লক্ষ্য ২০২৯-৩০: পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক বছরে প্রতিদিন ৫.২ মিলিয়ন কিলোগ্রাম দুধ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বন্ধ থাকা শিবপুরী ডেইরি প্ল্যান্ট চালু করা হচ্ছে এবং জব্বলপুরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পনির প্ল্যান্ট পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। ইন্দোরে ইতিমধ্যেই প্রতিদিন ৩ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাউডার কারখানা চালু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে, পিপিপি (PPP) মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরও এই শিল্পে যুক্ত করা হবে।