সিইও দপ্তরে এবার সেনার শাসন! কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় কি আমজনতার প্রবেশ নিষেধ?

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে এবার থেকে পা রাখতে গেলে আপনাকে আমূল বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। এতদিন যে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা বা প্রবেশের অধিকার ছিল, তা এখন অতীত। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এবার থেকে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। শুধু তাই নয়, দপ্তরের ভেতরে কে ঢুকবেন আর কে বেরোবেন, সেই পাস দেওয়ার ক্ষমতাও এখন থেকে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতেই।
সম্প্রতি বিএলও-দের (BLO) একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সিইও দপ্তরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং কলকাতার নগরপালকে চিঠি দিয়ে কৈফিয়ত তলব করেন। এর পরেই দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলোর ধাঁচে কলকাতার এই দপ্তরেও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এর আগে সিইও দপ্তরের জন্য এমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রয়োজন পড়েনি।
নতুন নিয়মে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের গতিবিধিতেও নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র এবং পাস ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি দপ্তরের কর্মীদেরও পরিচয় যাচাই করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সফরের সময়ও এখন থেকে ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধি দল। তাঁর বাড়ি থেকে দপ্তর এবং জেলা সফর—সর্বত্রই এই সুরক্ষা বলয় বজায় থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই কঠোর পদক্ষেপ। যদিও মনোজ কুমার আগরওয়াল আশ্বাস দিয়েছেন যে, কাজের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কোনো অসুবিধা হবে না, তবে বিশৃঙ্খলা রুখতে নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। এখন দেখার, এই কড়াকড়ির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে কতটা শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট করাতে সক্ষম হয়।