“নেপালি-চাইনিজ” কটূক্তি ও হাতুড়ির ঘা! দেরাদুনে অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুতে বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আইনের দাবি

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার তফসিলি জনজাতিভুক্ত ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার (Angel Chakma) মৃত্যুতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে “জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বর্ণনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করেছে ‘চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’ (CDFI)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সুহাস চাকমা দাবি করেছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
গত ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনের সেলাকুই বাজারে কোনো উসকানি ছাড়াই অ্যাঞ্জেল ও তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা চালায় ছয়জন স্থানীয় ব্যক্তি। তাঁদের শারীরিক গঠন নিয়ে “নেপালি”, “চাইনিজ” এবং “মোমোস”-এর মতো বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে নৃশংস আক্রমণ চালানো হয় তাঁদের ওপর। টানা দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বৃহস্পতিবার গ্রাফিক এরা হাসপাতালে মৃত্যু হয় অ্যাঞ্জেলের। অভিযোগ উঠেছে, উত্তরাখণ্ড পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করতে তিন দিন সময় নিয়েছে, যার সুযোগে মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা।
সিডিএফআই-এর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, ঘটনার জন্য দায়ি পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং উত্তর-পূর্বের মানুষের সুরক্ষায় স্পেশাল পুলিশ ইউনিট (SPUNER) গঠন। এছাড়াও, ২০১৪ সালের বেজবরুয়া কমিটির সুপারিশ মেনে ভারতে একটি কড়া ‘বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আইন’ প্রণয়ন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে সংগঠনটি।