বিষ্ণুর মুখে গোঁফ! এগরার মন্দিরে এ কেমন মূর্তি? রহস্যভেদে শিউরে উঠছেন ইতিহাসবিদরা

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা শহরের প্রাচীন হট্টনাগর মন্দির। এই মন্দিরে পা রাখা মাত্রই পর্যটক থেকে গবেষক— সবার চোখ আটকে যায় একটি বিশেষ মূর্তিতে। সেটি একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি। কিন্তু কেন এই মূর্তিকে ঘিরে এত শোরগোল? কারণ, এই মূর্তির গঠনশৈলী ভারতের আর পাঁচটা প্রচলিত বিষ্ণুমূর্তির মতো নয়। ভারতীয় ইতিহাসে এই মূর্তিটি এক অত্যন্ত দুর্লভ এবং রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক বীরকুমার শী-র মতে, এই মূর্তিটি ভারতীয় শিল্পরীতির ছক ভেঙে তৈরি। সাধারণত ভারতীয় দেববিগ্রহে ভগবান বিষ্ণুর গোঁফ দেখা যায় না। কিন্তু হট্টনাগর মন্দিরের এই মূর্তিতে রয়েছে স্পষ্ট গোঁফ। শুধু তাই নয়, এর চোখ, ভ্রু এবং ঠোঁটের গড়নেও রয়েছে এক অদ্ভুত ভিন্নতা। গবেষকদের দাবি, এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পরীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষ করে কম্বোডিয়া এবং জাপানের কিছু প্রাচীন মূর্তির সঙ্গে এর অবাক করা সাদৃশ্য পাওয়া গিয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, এগরার অদূরেই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বন্দর। সেই সময় জলপথে বিদেশের সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল এই অঞ্চলের। গবেষকদের অনুমান, কয়েকশো বছর আগে জলপথেই হয়তো বিদেশ থেকে এই বিশেষ মূর্তিটি এখানে আনা হয়েছিল। বিদেশের শিল্পকলা কীভাবে বাংলার এই মন্দিরে ঠাঁই পেল, তা আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। মন্দিরে আসা ভক্তরা আজও এই বিচিত্র রূপের বিষ্ণুমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের অজানা গন্ধ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন।