“আর মাত্র দেড় মাস, তারপর খেলা ঘুরবে!” চাঁচলে সভা বাতিলের পর হুঙ্কার শুভেন্দুর

মালদহের চাঁচলে নির্ধারিত রাজনৈতিক সভা বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ফের রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মহম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লাটিনাম জুবিলী উৎসবে যোগ দিতে এসে তিনি চাঁচলের সভা বাতিলের ঘটনাকে “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেন। শুভেন্দুর দাবি, এই সরকার ভয় পেয়ে পুলিশকে দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “এই সরকার অন্তত ১০২ বার আমার সভা বা কর্মসূচি পরিকল্পিতভাবে আটকে দিয়েছে। কিন্তু এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। আমরা ২৯ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টের ভ্যাকেশন বেঞ্চে আইনি আবেদন জানাচ্ছি।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আর মাত্র দেড় মাস সময় আছে, তারপর আর সভার অনুমতি আটকানোর ক্ষমতা কারও থাকবে না।”
এদিন রাজ্যের বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হন তিনি। নন্দীগ্রামের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে রাজ্যে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা গ্রামীণ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়াও ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ লেখা টোটো ভাঙচুরের অভিযোগে বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। শুভেন্দুর পালটা দাবি, “টোটোটি পুকুরে উল্টে গিয়েছিল, অথচ পুলিশ শাসকদলের ক্যাডারের মতো কাজ করে আমাদের কর্মীদের ফাঁসিয়েছে।”
সবশেষে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।