ভারত কি এবার কড়া পদক্ষেপ নেবে? বাংলাদেশে মন্দির ধ্বংস ও হিন্দুদের ওপর বর্বরোচিত হামলা নিয়ে বড় আপডেট!

দেশভাগের ক্ষত আজও মোছেনি, বরং ওপার বাংলার মাটিতে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের রক্ত ও ঘাম মিশে ছিল, আজ সেই মাটিতেই হিন্দুদের রক্ত ঝরছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মাত্রা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাকে আন্তর্জাতিক মহল ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে দেখছে।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান: কমছে জনসংখ্যা, বাড়ছে লাশ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শিউরে উঠতে হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২২%, যা বর্তমানে কমতে কমতে ৮%-এর নিচে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু বিরোধী সহিংসতার ২,২৪৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২টি মন্দিরে আক্রমণ, ৫৯টি উপাসনালয় ভাঙচুর এবং কমপক্ষে ২৩ জন হিন্দুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের শুরুতেই রাজবাড়ী জেলার অমৃত মণ্ডল ও দীপু চন্দ্র দাসের মতো তরুণদের পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সেখানে সংখ্যালঘুদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

ইউনুস সরকারের নীরবতা ও আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, জামাত-এ-ইসলামীর মতো কট্টরপন্থী সংগঠনগুলোকে মদত দেওয়া হচ্ছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুস হিন্দু হত্যা নিয়ে কোনো কড়া পদক্ষেপ তো দূরের কথা, নূন্যতম স্পষ্ট কোনো বিবৃতি পর্যন্ত দেননি। ব্রিটিশ সংসদ থেকে শুরু করে ভারত সরকার—সর্বত্রই এই নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা হচ্ছে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ও উত্তপ্ত রাজপথ সম্প্রতি ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার এই আগুনে ঘি ঢেলেছে। সনাতনী অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ তকমা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ভারতকে এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিতে দেখা গেছে এবং বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

ভারতের রণকৌশল: কেবল কূটনীতি না কি অন্য কিছু? ভারত সরকার বিষয়টিকে কেবল প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (CAA) মাধ্যমে দুর্গতদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এবার সময় এসেছে ‘বিনু ভয় হোঁহি ন প্রীতি’ মন্ত্রে চলার। অর্থাৎ কেবল আলোচনার টেবিলে নয়, কড়া কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রয়োজনে কঠোর সামরিক বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে ভারত তার প্রতিবেশীর ওপর এই অত্যাচার সহ্য করবে না।