বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে খোদ বিরোধীরাই! আসন ভাগাভাগি থেকে নেতৃত্বের লড়াই—জোটের কফিনে শেষ পেরেক?

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যে ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A) জোটের উত্থান ভারতীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী বিকল্পের আশা জাগিয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে সেই জোট যেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় দিশেহারা। গত এক বছরে জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কৌশলগত বিভ্রান্তি এবং নেতৃত্বের সংকট এতটাই গভীর হয়েছে যে, জোটটি এখন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।

বৈঠকহীন বছর ও ছন্নছাড়া দশা: ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় এবং নেতিবাচক সত্য হলো—পুরো বছরে ইন্ডিয়া জোটের একটিও আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। যে কোনো জোটের প্রাণ হলো নিয়মিত সংলাপ, কিন্তু এখানে দলগুলি নিজেদের মতো পথ চলা শুরু করেছে। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসের বিচ্ছেদ এবং মহারাষ্ট্রের পুরভোটে কংগ্রেসের একলা চলার জেদ জোটের ফাটলকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এর সরাসরি সুবিধা পেয়েছে বিজেপি।

বিহারের বিপর্যয় ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব: বিহারে মহাজোট এক হয়ে লড়লেও নেতৃত্বের রেষারেষি আর টিকিট বণ্টনের অসন্তোষের কারণে চরম পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, জোটের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আঞ্চলিক দলগুলির শক্তিকে উপেক্ষা করে কংগ্রেস এককভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে না। জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লার বয়ানও জোটের আদর্শগত দুর্বলতাকে প্রকট করেছে।

রাহুল গান্ধীর ভূমিকা ও বিশ্বাসযোগ্যতা: ২০২৫ সালে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি বা বেকারত্বের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সরকারকে ঘেরার বদলে তিনি বেশিরভাগ সময় নির্বাচন কমিশন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করতেই ব্যস্ত ছিলেন। এছাড়া কর্ণাটকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে ব্যর্থতা এবং তাঁর কিছু বিতর্কিত মন্তব্য জোটের শরিকদের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সাল বিরোধীদের জন্য সুযোগ হতে পারত, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক অবিশ্বাসের বলি হলো।