১০ আইপিএস ও ৩ আইএএস অফিসারের মানসিক নির্যাতন! মৃত্যুর আগে ডায়েরিতে হাড়হিম করা তথ্য লিখে গেলেন দুঁদে অফিসার।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানার প্রশাসনিক অলিন্দে এখন চরম অস্থিরতা। একদিকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত করা হলো অমৃতসরের এসএসপি (ভিজিল্যান্স) লক্ষবীর সিংকে, অন্যদিকে একের পর এক আইপিএস অফিসারের আত্মহত্যার চেষ্টা ও চাঞ্চল্যকর সুইসাইড নোট ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে গোটা দেশে।
৫৫ কোটির টেন্ডার কেলেঙ্কারি ও এসএসপি বরখাস্ত: পাঞ্জাব সরকার এক কঠোর সিদ্ধান্তে অমৃতসরের ভিজিল্যান্স এসএসপি লক্ষবীর সিংকে বরখাস্ত করেছে। জনৈক সিনিয়র আইএএস অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, অমৃতসরের অভিজাত রঞ্জিত অ্যাভিনিউ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ ৫৫ কোটি টাকার টেন্ডারে বড়সড় জালিয়াতি হয়েছে এবং সেই তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করছিলেন লক্ষবীর সিং।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের আত্মহত্যার চেষ্টা: এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাঝেই পাঞ্জাবের প্রাক্তন আইজি অমর সিং চাহাল পাতিয়ালায় নিজের বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সঙ্কটজনক অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ তাঁর ঘর থেকে ২৫ পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একটি অনলাইন জালিয়াতি চক্রের পাল্লায় পড়ে তিনি ৮ কোটি টাকা খুইয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে এবং সামাজিক অপমানে বিধ্বস্ত হয়েই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।
আইপিএস ওয়াই. পুরান কুমারের মৃত্যু ও হয়রানির অভিযোগ: প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির ছায়া হরিয়ানাতেও বিস্তৃত। ২০২৫ সালের অক্টোবরে হরিয়ানা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার ওয়াই. পুরান কুমার আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া ৮ পাতার সুইসাইড নোটে তিনি ৩ জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস অফিসারের নাম উল্লেখ করেছেন। জাপান ফেরত এই অফিসারের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ সময় ধরে বর্ণবিদ্বেষ এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। উচ্চপদস্থ কর্তাদের ক্রমাগত অপমান এবং প্রশাসনিক হয়রানি সহ্য করতে না পেরেই তিনি জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই জোড়া ঘটনায় এখন প্রশ্নের মুখে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা পুলিশের অন্দরের পরিস্থিতি।