জরায়ুমুখ থেকে ফুসফুসের ক্যানসার—বাচ্চাদের শরীরে থাবা বসানোর আগেই সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা!

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মারণ রোগ ক্যানসার থেকে মুক্ত রাখতে অভিনব এক উদ্যোগ নিল দিল্লি স্টেট ক্যানসার ইনস্টিটিউট (DSCI)। “ক্যানসার হসপিটাল স্কুল উইথ উইংস” বা ‘PANKH’ (পাখ) প্রোগ্রামের মাধ্যমে দিল্লির সরকারি স্কুলগুলিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—সুস্থ সমাজ গঠন এবং ক্যানসারমুক্ত ভারত।
কী এই ‘PANKH’ উদ্যোগ? DSCI-এর মতে, ‘PANKH’ শব্দটির প্রতিটি অক্ষরের আড়ালে লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। P-প্রতিরোধ (Prevention), A-সচেতনতা (Awareness), N-পুষ্টি (Nutrition), K-জ্ঞান (Knowledge) এবং H-আশা (Hope)। এক বছর আগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই দিল্লির ডজনেরও বেশি স্কুলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্যানসার প্রতিরোধের পাঠ নিয়েছে। হাসপাতালের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর থেকে এই সংখ্যা বার্ষিক ২৫-৩০টি স্কুলে নিয়ে যাওয়ার।
শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হচ্ছে? ক্লিনিক্যাল অনকোলজির অধ্যাপক ডঃ শাম্ভবী শর্মার মতে, বিশ্বে ২০০-র বেশি ধরনের ক্যানসার রয়েছে। এর মধ্যে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পরিচ্ছন্নতা, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে যেসব ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেগুলি নিয়েই মূলত আলোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জরায়ুমুখ, স্তন, ফুসফুস, লিভার এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবারকেও সতর্ক করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত: DSCI-এর ডিরেক্টর ডঃ বিনোদ কুমার এই উদ্যোগকে একটি ‘উদ্ভাবনী পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। প্রোগ্রামের মেন্টর ডঃ পঙ্কজ ত্যাগী জানান, প্রতি মাসে ২-৩টি স্কুলে পৌঁছে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনের ভয় দূর করা হচ্ছে। এই অভিযানে অনকোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সহ বিভিন্ন বিভাগের ৪-৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরেই ক্যানসার সচেতনতা পৌঁছে দিতে পারলে দেশে এই রোগের বোঝা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।