পরীক্ষার্থীর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করত হ্যাকাররা! দিল্লি পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় বড় কাণ্ড, প্রশ্নের মুখে কয়েক হাজার ভবিষ্যৎ।

স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC)-এর পরীক্ষায় বড়সড় জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ChatGPT-কে হাতিয়ার করে চলছিল এই অসাধু কারবার। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ২৭শে ডিসেম্বর এবং তার পরবর্তী সমস্ত নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা করেছে কমিশন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের শীঘ্রই এসএমএসের মাধ্যমে নতুন সময় ও কেন্দ্র জানিয়ে দেওয়া হবে।

কিভাবে ফাঁস হলো এই চক্র? গোটা ঘটনার শুরু একটি ভুয়ো অপহরণের গল্প দিয়ে। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বাসিন্দা করণ সিংয়ের পরিবার অভিযোগ করে যে, তাকে পরীক্ষা চলাকালীন অপহরণ করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অপহরণের বিষয়টি ছিল সাজানো নাটক। আসলে করণ নিজেই একটি বড় ‘সলভার গ্যাং’-এর সক্রিয় সদস্য। এরপরই পুলিশ হানা দিয়ে বিহারের মুঙ্গের, ভাগলপুর ও নালন্দা থেকে আরও ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

জালিয়াতির হাই-টেক কৌশল: জেরায় অপরাধীরা কবুল করেছে যে, তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থেকে রিমোট অ্যাক্সেসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করত। প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য তারা গুগল এবং ChatGPT-র মতো এআই টুলের সাহায্য নিত। প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে এই জালিয়াতির জন্য ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ জাল নথি, প্রবেশপত্র এবং ১০ লক্ষ টাকার ব্ল্যাঙ্ক চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজ্যজুড়ে জাল: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রের নেটওয়ার্ক কেবল বিহার বা উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ নেই; বরং হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত। পাটনা, পূর্ণিয়া ও ভাগলপুরের বেশ কিছু অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রের মালিকদের সাথেও এদের যোগসাজশ ছিল। দিল্লি পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষাতেও এই চক্র বড় ধরনের কারচুপি করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পলাতক বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।