সোনার দাম ১.৪২ লক্ষ ছুঁইছুঁই! বিয়ের মরসুমে মধ্যবিত্তের ‘স্মার্ট গেমপ্ল্যান’, দোকানে ভিড় কমাতে পারছে না আকাশছোঁয়া দর

২০২৫ সাল ভারতীয় মধ্যবিত্তের বাজেটে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষ করে সোনার দাম যেভাবে আকাশ স্পর্শ করেছে, তাতে বিবাহের মরসুমে মাথায় হাত পড়েছে বহু পরিবারের। তবে ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের টানে ভারতীয়রা দমে যাওয়ার পাত্র নন। মুদ্রাস্ফীতি এবং চড়া দামের মোকাবিলা করতে ক্রেতারা খুঁজে নিয়েছেন এক ‘স্মার্ট’ বিকল্প। ২২ ক্যারেটের চিরাচরিত সোনার গয়নার পরিবর্তে বাজারে এখন রমরমিয়ে বিকোচ্ছে ১৪ ও ১৮ ক্যারেটের গয়না।
রেকর্ড ভাঙা দামের খতিয়ান: আমেদাবাদ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ৮০,০০০ টাকা। কিন্তু বছরের শেষে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১.৪২ লক্ষ টাকায়। এই বিশাল বৃদ্ধির কারণে গত দু’বছরে ২২ ক্যারেটের সোনার চাহিদা ৭৫% থেকে কমে মাত্র ৫০%-এ এসে দাঁড়িয়েছে। অলঙ্কার বিশেষজ্ঞ মনোজ সোনির মতে, ভারতীয়রা সোনা ছাড়া বিয়ে কল্পনা করতে পারেন না। তাই দাম বাড়লেও কেনাকাটা বন্ধ হয়নি, শুধু পদ্ধতির বদল ঘটেছে। এখন আংটি, ব্রেসলেট এমনকি সাধারণ সোনার হার তৈরিতেও ১৪ থেকে ১৮ ক্যারেট সোনা ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।
কেন সোনার দামে এই অগ্নিমূল্য? পণ্য বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে একাধিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক কারণকে দায়ী করছেন:
যুদ্ধ ও অস্থিরতা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কমার লক্ষণ নেই। এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নাইজেরিয়ায় সামরিক অস্থিরতা বিশ্ববাজারকে তটস্থ রেখেছে।
নিরাপদ বিনিয়োগ: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্টক মার্কেটের বদলে সোনাকে ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নেন, ফলে চাহিদা বেড়ে দাম আকাশছোঁয়া হয়।
মার্কিন ফেড নীতি: আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাওয়ায় আগামী বছর সুদের হার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সুদের হার কমলে সোনার আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পায়।
গয়নার বাজারে আসা এই নতুন ট্রেন্ড ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আভিজাত্য বজায় রেখেও পকেটের কথা ভেবে ভারতীয়রা এখন কম ক্যারেটের আধুনিক ডিজাইনেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।