‘রিল’ যখন ‘রিয়েল’! বান্টি অউর বাবলি দেখে ১৬ লক্ষের সোনা-হীরে লোপাট, পুলিশের জালে দুই ১৮ বছরের কিশোর-কিশোরী!

ভবিষ্যৎ ছিল উজ্জ্বল। একজনের দুচোখে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, অন্যজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির দাপট আর দ্রুত বড়লোক হওয়ার হাতছানি এক লহমায় বদলে দিল জীবনের গতিপথ। বলিউড সিনেমা ‘বান্টি অউর বাবলি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৬ লক্ষ টাকার গয়না চুরির অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে গ্রেফতার হল দুই ১৮ বছর বয়সি তরুণ-তরুণী। বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।
এআই-এর দাপটে চাকরি হারানোই কি কাল? তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত যুবকটি একটি আইটি সংস্থায় পার্ট-টাইম গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করায় কাজ হারান তিনি। আর্থিক অনটনের মুখে পড়ে নিজের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ওই তরুণ। অন্যদিকে, তাঁর বান্ধবী নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যে। দুজনেই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। দ্রুত টাকা রোজগারের নেশায় তাঁরা বেছে নেন অপরাধের পথ।
সিনেমার কায়দায় লুট: গত ২২ ডিসেম্বর রাতে ইন্দোরের রাও থানা এলাকায় একটি নামী গয়নার দোকান থেকে সোনা, রুপো ও হীরে মিলিয়ে মোট ১৬.১৭ লক্ষ টাকার গয়না চুরি করে এই যুগল। ডিসিপি শ্রীকৃষ্ণ লালচন্দানি জানান, জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে যে ২০০৫ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘বান্টি অউর বাবলি’ দেখেই তারা এই চুরির নীল নকশা তৈরি করেছিল। ঘটনার পর তারা ভোপালে পালিয়ে যায়, সেখান থেকেই পুলিশ তাদের জালে ফেলে।
কেন ধরা পড়ল এই ‘বান্টি-বাবলি’? চুরি করা গয়না নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের বয়স কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সন্দেহ করেন এবং সঠিক দাম দিতে অস্বীকার করেন। ঠিক হয়েছিল বড়দিনের ছুটির পর গয়নাগুলি বিক্রি করা হবে। কিন্তু সেই সুযোগ আর মেলেনি। তার আগেই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পুলিশ পৌঁছে যায় তাদের আস্তানায়। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া সমস্ত অলঙ্কার। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এমন অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়া দেখে স্তম্ভিত তদন্তকারী আধিকারিকরাও।