বিসিসিআই-এর তুঘলকি সিদ্ধান্ত? ঘরোয়া ক্রিকেটের মান আর অভিজ্ঞদের ফিটনেস নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম দিনেই রানের পাহাড় আর সেঞ্চুরির বন্যা! ৯৪ বলে ১৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন রোহিত শর্মা, পিছিয়ে নেই বিরাট কোহলিও। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ২৪ ডিসেম্বর বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের মান কি আদৌ কোহলি-রোহিতের মতো কিংবদন্তিদের পরীক্ষা করার জন্য যথেষ্ট? প্রথম দিনেই মোট ২২টি শতরান হয়েছে, যার মধ্যে একটি দ্বিশতরান এবং ১৯০ রানের ইনিংসও রয়েছে। এমনকি মাত্র ৩২ বলে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ভারতের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও তৈরি হয়েছে এই টুর্নামেন্টে।

অরুণাচলের বিরুদ্ধে বিহারের ৫৭৪ রান কিংবা কর্ণাটক-বাংলার পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করে জয়—এই পরিসংখ্যানগুলোই টুর্নামেন্টের বোলারদের কঙ্কালসার চেহারাটা বের করে দিচ্ছে। যেখানে রান করাটা এখন ‘রসিকতায়’ পরিণত হয়েছে, সেখানে ২৫ হাজার আন্তর্জাতিক রান করা ব্যাটসম্যানদের ফর্ম বা ফিটনেস এই স্তরের ক্রিকেটে বিচার করাটা হাস্যকর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিরাট-রোহিতকে এই ম্যাচগুলিতে খেলতে বাধ্য করে বিসিসিআই হয়তো ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু আদতে এটি সেই তরুণ প্রতিভাদের প্রতি অবিচার, যারা এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেত।

সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো প্রচারের ক্ষেত্রে। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে সুপারস্টাররা খেললে ঘরোয়া ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়বে। কিন্তু বিসিসিআই এই ম্যাচগুলো টিভি বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারের কোনো ব্যবস্থাই করেনি। এমনকি দিল্লির ম্যাচে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। নির্বাচকরা হয়তো ভাবছেন তাঁরা বড় তারকাদের ‘তালে নাচাতে’ পেরেছেন, কিন্তু বাস্তব হলো এই স্তরের খেলায় ১৫-২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটারদের ব্যাটিং অনুশীলনের বাইরে বিশেষ কোনো লাভ হচ্ছে না। এই প্রহসন ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়ন করবে নাকি একে আরও গুরুত্বহীন করে তুলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।