গোপন ষড়যন্ত্র! অরুণাচল নিয়ে চীনের নতুন চাল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে সতর্ক করল আমেরিকা।

পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর যখন সীমান্ত কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ (Pentagon) এক চরম সতর্কবার্তা জারি করল। মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, চীন এখন অরুণাচল প্রদেশকে তাইওয়ানের মতোই তাদের ‘মূল স্বার্থ’ বা ‘কোর ইন্টারেস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর অর্থ হলো, বেইজিং এখন অরুণাচল নিয়ে আর কোনো আপস করতে রাজি নয়।

পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৪৯ সালের মধ্যে ‘মহা পুনরুত্থান’ (Great Rejuvenation)-এর এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বেইজিং। এই পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তারা অরুণাচল প্রদেশ, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে নিজেদের মানচিত্রে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করতে চায়। তাদের লক্ষ্য হলো ২০৪৯ সালের মধ্যে একটি ‘বিশ্বমানের সেনাবাহিনী’ গড়ে তোলা, যা যেকোনো আন্তর্জাতিক যুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে। চীন শুরু থেকেই ১৯১৪ সালের ‘ম্যাকমোহন লাইন’ প্রত্যাখ্যান করে অরুণাচলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু পেন্টাগনের দাবি, এবার তারা এই দাবিকে তিব্বতের মতোই ‘অ-আলোচনাযোগ্য’ (Non-negotiable) পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বেইজিংয়ের এই মরিয়া মনোভাবকেই স্পষ্ট করছে। গত মাসেই (নভেম্বর ২০২৫) লন্ডন থেকে জাপান যাওয়ার পথে অরুণাচলের বাসিন্দা প্রেমা থংডককে সাংহাই বিমানবন্দরে ১৮ ঘণ্টা আটক রাখা হয়। কারণ? তাঁর পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে ‘অরুণাচল’ লেখা ছিল, যা চীনা কর্মকর্তারা ‘অমান্য’ বলে দাবি করেন। এছাড়া সম্প্রতি এক ভারতীয় ইউটিউবারকেও চীনে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে অরুণাচলকে ভারতের অংশ বলায়। প্রাক্তন কূটনীতিকদের মতে, আমেরিকা প্রথমবারের মতো লাদাখ ইস্যুর বাইরে গিয়ে সরাসরি অরুণাচল নিয়ে চীনের আগ্রাসনের কথা বলছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।