১৫ বছর পর জাপানের বড় সিদ্ধান্ত, বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ফের হবে চালু

২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের কালো স্মৃতি কাটিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া’ পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে জাপান। সোমবার নিগাতা প্রিফেকচার অ্যাসেম্বলিতে এই সংক্রান্ত একটি আস্থা ভোট পাস হয়েছে, যা জাপানের জ্বালানি নীতিতে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। টোকিও থেকে ২২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটির প্রথম চুল্লি আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ফুকুশিমা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কোম্পানি ‘টেপকো’ (TEPCO) এই প্রথম কোনো কেন্দ্র পুনরায় চালু করার অনুমতি পেল। কেন্দ্রটির সাতটি চুল্লির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৮.২ গিগাওয়াট, যা লক্ষ লক্ষ বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। যদিও সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা ও খরচ কমানোর দোহাই দিচ্ছে, কিন্তু স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ তুঙ্গে। সোমবার বিধানসভার বাইরে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও ৩০০ জন মানুষ বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের জীবনই আগে বিপন্ন হবে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এখনও টেপকো-কে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির সরকার AI ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তির ওপর জোর দিচ্ছেন। টেপকো আগামী ১০ বছরে নিগাতায় ১০০ বিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও ফুকুশিমার স্মৃতি এখনও জাপানিদের মনে গভীর আতঙ্ক জাগিয়ে রাখছে।