শুনানির মাঝেই মা হলেন বন্দির স্ত্রী! আদালত চত্বরেই জন্ম নিল ফুটফুটে পুত্রসন্তান, বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী দামোহ

আদালতের গাম্ভীর্য, বিচারকের এজলাস আর আইনজীবীদের কালো কোট— সবকিছুর মাঝে হঠাৎই বেজে উঠল এক নবজাতকের কান্না। জেলবন্দি স্বামীর শুনানির জন্য আদালতে এসেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বপ্না ভাস্কর। কিন্তু সেই আদালত কক্ষেই যে তাঁর কোল আলো করে নতুন অতিথি আসবে, তা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলা আদালতে ঘটল এই নজিরবিহীন ঘটনা।

স্বামীর টানে আদালত চত্বরে: স্বপ্নার স্বামী একটি ফৌজদারি মামলায় বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। গর্ভস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় প্রায় হয়ে এলেও স্বামীর শুনানির দিনে আদালতে উপস্থিত থাকতে ভোলেননি স্বপ্না। মঙ্গলবারও সেই মতোই আদালতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই আদালত চত্বরে তাঁর তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়।

আইনজীবীদের তৎপরতায় রক্ষা: হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়টুকুও ছিল না। অলোক শ্রীবাস্তব নামে এক আইনজীবী জানান, স্বপ্নার কষ্ট দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় এজলাস। স্থগিত হয়ে যায় শুনানি। তড়িঘড়ি আইনজীবীরাই কাপড় ও জলের বোতল জোগাড় করেন। আদালত চত্বরে উপস্থিত থাকা কয়েকজন চিকিৎসককে দ্রুত ডেকে আনা হয়। তাঁদের সহায়তায় আদালতের চার দেওয়ালের মাঝেই পুত্রসন্তানের জন্ম দেন স্বপ্না।

“বড় হয়ে ও আইনজীবীই হবে!”: এই ঘটনায় খুশির জোয়ার বইছে স্বপ্নার পরিবারে। তাঁর বোন আবেগের সঙ্গে বলেন, “এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক। যার জন্ম আদালত চত্বরে হলো, ঈশ্বর বোধহয় চান সে বড় হয়ে আইনজীবীই হোক।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। বিচারব্যবস্থার মতো পবিত্র স্থানে একটি নতুন প্রাণের জন্ম হওয়াকে অনেকেই শুভ সংকেত হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে মা ও শিশু— দুজনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01