দূষণের গ্রাসে শৈশব! স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর সুপ্রিম কোর্টের, মিড-ডে মিল নিয়ে আইনজীবীদের আর্জি খারিজ

রাজধানী দিল্লির ‘বিষাক্ত’ বাতাস থেকে শিশুদের বাঁচাতে স্কুল বন্ধের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছিল, তাতে কোনো হস্তক্ষেপ করল না দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল, তীব্র দূষণ থেকে শিশুদের রক্ষার্থে বিশেষজ্ঞদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর আদালত এখনই কোনো নির্দেশ চাপিয়ে দিতে পারে না।

আদালতে ‘গরিব পড়ুয়া’দের পক্ষে সওয়াল: দিল্লি সরকারের ক্লাস স্থগিতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় এদিন মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এক আবেগঘন যুক্তি পেশ করেন। তিনি জানান:

সরকারি স্কুলের বহু গরিব পড়ুয়া মিড-ডে মিলের ওপর নির্ভরশীল।

হঠাৎ স্কুল বন্ধ হওয়ায় তাঁদের এক বেলার খাবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথ্রা প্রশ্ন তোলেন, যাদের বাড়িতে কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা স্মার্টফোন নেই, সেই শিশুরা অনলাইনে ক্লাস করবে কীভাবে?

সরকার পক্ষের যুক্তি: সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, শিশুদের স্বাস্থ্যই এখন অগ্রাধিকার। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত যানজট দূষণকে আরও বাড়িয়ে দেয়, যা ছোটদের ফুসফুসের জন্য মারাত্মক। সামনেই শীতের ছুটি, তাই মাত্র কয়েক দিনের জন্য এই স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অপরিসীম। মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে আদালত জানিয়ে দেয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোটদের ক্লাসে শারীরিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক না করার সিদ্ধান্তটিই বহাল থাকবে। তবে অনলাইনের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের শিক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনকে ভাবতে হবে।

দিল্লির পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলগুলি আপাতত ১৫ ডিসেম্বর থেকেই বন্ধ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর স্পষ্ট যে, শীতের ছুটি পর্যন্ত ক্লাসরুমে ফিরছে না খুদেরা।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01