বিশেষ: মহাকাশের কোন উৎস থেকে আসে নীল আলোর ঝলকানি, কি বলছে বিজ্ঞানীরা?

মহাকাশের অতল গহ্বর থেকে মাঝেমধ্যেই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তীব্র নীল আলোর ঝলকানি। মাত্র কয়েক মুহূর্তের স্থায়িত্ব হলেও এর উজ্জ্বলতা বিজ্ঞানীদের কয়েক দশক ধরে বিভ্রান্ত করে রেখেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্টস’ (LFBOTS)। কেন এই নীল আলো এবং এর উৎস কী? দীর্ঘ গবেষণার পর অবশেষে সেই রহস্য সমাধানের দাবি করেছেন একদল বিজ্ঞানী।

রহস্যময় সেই নীল আলো আসলে কী?

বিগত দশ বছরে বিজ্ঞানীরা এক ডজনেরও বেশি এমন আলোর ঝলকানি প্রত্যক্ষ করেছেন। এগুলো দেখা যাওয়ার পরপরই শক্তিশালী এক্স-রে এবং রেডিও তরঙ্গ বিকিরণ করে উধাও হয়ে যায়। আগে মনে করা হতো এটি হয়তো কোনো নক্ষত্রের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা সম্পূর্ণ নতুন এক সত্য সামনে এনেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই নীল আলোর নেপথ্যে রয়েছে ‘এক্সট্রিম টাইডাল ডিসরাপশন’

  • প্রক্রিয়া: যখন কোনো বিশালাকার ব্ল্যাক হোল তার কাছাকাছি আসা একটি নক্ষত্রকে বা তারাকে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় টানে গিলে ফেলার চেষ্টা করে, তখন সেই তারাটি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

  • ফলাফল: এই ধ্বংসলীলার সময় প্রচণ্ড শক্তি নির্গত হয়, যা নীল আলোর ঝলকানি হিসেবে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্ল্যাক হোলের জন্মরহস্য কি এবার ফাঁস হবে?

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউসি বার্কলের অধ্যাপক রাফায়েলা মারগুত্তি জানিয়েছেন, এই এলএফবিওটিএস-এর পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিচ্ছে। বিশালাকার ব্ল্যাক হোলগুলো আসলে কীভাবে তৈরি হয় এবং তারাগুলো কীভাবে বিবর্তিত হয়, তা বোঝার জন্য এই নীল আলো এখন ‘সূত্র’ হিসেবে কাজ করবে।

গবেষকরা বর্তমানে দুটি আলাদা গবেষণাপত্রে এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যা শীঘ্রই বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এই আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।