ইংল্যান্ডে স্কুলে কিশোররা শিখবে পর্ন ও বাস্তবের পার্থক্য, আসছে নতুন সিলেবাস

ইন্টারনেটের নীল জগৎ আর বাস্তব জীবনের সম্পর্কের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কিন্তু আধুনিক যুগে কিশোর-কিশোরীরা এই সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে ভুল করছে, যার ফলশ্রুতিতে বাড়ছে নারীবিদ্বেষ, অনলাইন হয়রানি এবং সহিংস আচরণ। এই গভীর সামাজিক সমস্যা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে ইংল্যান্ড সরকার।

কী শেখানো হবে স্কুলে?

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘোষিত নতুন কৌশলের আওতায় ১১ বছর বা তার বেশি বয়সের শিশুদের বিশেষ ‘আচরণগত কোর্সে’ অংশ নিতে হবে।

  • পর্ন লিটারেসি: পর্দার কল্পিত জগৎ আর বাস্তবের সুস্থ সম্পর্কের পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝানো হবে।

  • অনলাইন সুরক্ষা: ডিপফেইক, স্টকিং, এআই লিটারেসি এবং ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করার ভয়ংকর ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করা হবে।

  • শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে নারীবিদ্বেষ বা উগ্র আচরণের লক্ষণ দেখলে শিক্ষকরা কীভাবে হস্তক্ষেপ করবেন, তার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিষাক্ত ধারণাগুলো খুব অল্প বয়সেই শিশুদের মনে দানা বাঁধছে। প্রত্যেক অভিভাবকের নিশ্চিন্ত থাকা উচিত যে তাদের কন্যারা অনলাইন এবং ব্যক্তিগত জীবনে নিরাপদ।” অন্যদিকে, নারী ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস সাফ জানিয়েছেন, শুধু কাগজে-কলমে নীতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীদের দমানো এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

তিনটি মূল স্তম্ভ ও বিশাল বাজেট

নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার তিনটি প্রধান পরিকল্পনা নিয়েছে: ১. অ্যান্ড্রু টেইট প্রভাব: ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ বা উগ্র পুরুষবাদী প্রভাবকদের ক্ষতিকর প্রচার থেকে তরুণদের দূরে রাখা। ২. বিশেষ অপরাধ দমন দল: ধর্ষণ ও যৌন অপরাধ দ্রুত দমনে গঠন করা হবে বিশেষায়িত টিম। ৩. বিশাল তহবিল: ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৫৫ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

যদিও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা, তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে পরিমাণ রেফারেল বাড়বে সেই চাপ সামলানোর মতো অবকাঠামো বর্তমানে স্কুলগুলোতে নেই। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের অভাবও একটি বড় বাধা হতে পারে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইংল্যান্ডের সব স্কুলে এই বিশেষ ‘আরএসএইচই’ (RSHE) পাঠ্যক্রম বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগের নতুন প্রজন্মের কাছে ‘পুরুষত্ব’ মানে যে ‘দয়া ও সহানুভূতিশীল হওয়া’, সেই শিক্ষাই হবে এই লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি।